Last Updated:
Tulu Mondal Update: আত্মীয় মিনার মন্ডল গ্রেফতার হলেও টুলু মন্ডল কোথায় রয়েছে সেই প্রশ্ন ঘুরছে তদন্তকারী সংস্থার মাথায়। তদন্তকারীদের আশঙ্কা দুবাই হয়ে তুরস্কে গা ঢাকা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। পুলিশ সূত্রে খবর গত সপ্তাহে পরিবারকে নিয়ে দুবাই যান নাজিমুদ্দিন ওরফে টুলু মন্ডল সঙ্গে ছিলেন বেয়াই ও ব্যবসায়ী বারিক বিশ্বাসের পরিবার। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান দুবাই থেকে তুরস্ক হয়ে লন্ডনে যেতে পারেন টুলু মন্ডল। বর্তমানে টুলু মন্ডলের চারটি ফোন সুইচ অফ।
বীরভূম, পঙ্কজ দাশরথী: বীরভূমের পাথর দুর্নীতির পাশাপাশি এবার রাস্তার কাজের টেন্ডার দুর্নীতিতেও নাম জড়াল প্রভাবশালী টুলু মণ্ডলের। অভিযোগ, বীরভূমের গণ্ডি পেরিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরাতেও ছড়িয়ে পড়েছে এই দুর্নীতির জাল। সাড়ে নয় কোটি টাকার একটি রাস্তার টেন্ডার পাইয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বড়সড় অনিয়ম এবং হুমকির বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার কশবা গোলা থেকে পানিপারুল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য সাড়ে নয় কোটি টাকার একটি টেন্ডার ডাকা হয়।
অভিযোগ, স্থানীয় ঠিকাদার শেখ মুক্তাজুলের যাবতীয় কাগজপত্র ও নথিপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও তাকে টেন্ডার দেওয়া হয়নি। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেই কাজ দেওয়া হয় বীরভূমের টুলু মণ্ডলকে। পরবর্তীকালে টুলু মণ্ডল সেই কাজের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন বীরভূমেরই ‘গনি স্টোন সাপ্লায়ার’-কে।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ ঠিকাদার ও হুমকির অভিযোগ প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের আশায় এগরার স্থানীয় ঠিকাদার শেখ মুক্তাজুল কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
অভিযোগকারীর দাবি, মামলা দায়ের করার পর শেখ মুক্তাজুলকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে সুমিত নামে এক ব্যক্তি তাকে চরম ধমক ও হুমকি দিয়ে হাইকোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ধরনের জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার হাতিয়ে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই হল কালো টাকাকে আইনি বা সাদা টাকায় রূপান্তর করা। স্থানীয় যোগ্য ঠিকাদারদের বঞ্চিত করে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ভিনজেলার সংস্থাকে কাজ দেওয়া এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে হুমকির মুখে পড়তে হওয়া—এই পুরো ঘটনাটি সরকারি উন্নয়নকাজে গভীর দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
