Last Updated:
হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ়ে নৌ-চলাচলে ইরানের হুমকি কমাতে অতিরিক্ত হামলা চলছে, পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন আরও সামরিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় ফের উত্তেজনা বেড়েছে। বুধবার মধ্যরাতে হরমুজ় প্রণালীর কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রত্যাঘাত হিসেবে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালায় আমেরিকা। ইরানের সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস, সিরিক, কোনারাক এবং চাবাহার এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলার পর বন্দর আব্বাসের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরানি বাহিনী। চাবাহারের কিছু অংশে বিদ্যুৎও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তার জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক সিএনএন-কে জানান, পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং আগামী দিনে আরও সামরিক পদক্ষেপ হতে পারে। একই সময়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ় প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সেন্টকমের দাবি।
এর আগে বুধবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমেরিকা সম্ভবত সেদিন রাতেই বড় ধরনের আঘাত হানবে। যদিও তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে গড়াবে না। তিনি আরও জানান, যা ঘটবে তা খুব দ্রুত ঘটবে।
মঙ্গলবার হরমুজ় প্রণালীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর আমেরিকা অভিযোগ করে, ওই হামলার নেপথ্যে রয়েছে তেহরান। আক্রান্ত জাহাজগুলির মধ্যে একটি ছিল ভারতমুখী। এরপর বুধবার ভোর থেকে ইরানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মেলে। পাল্টা বাহরিন ও কুয়েতে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সমুদ্রের জল পরিশোধনাগার এবং খার্গ দ্বীপ লক্ষ্য করে হামলার হুমকিও দেন।
তুরস্কের আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই সামরিক অভিযান চলছে। তাঁর অভিযোগ, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ় প্রণালীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স-এ লেখেন, “দাদাগিরি ও তোলাবাজির যুগ শেষ। এতে কোনও লাভ হবে না। আমরা মাথা নত করব না।”
উত্তেজনার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়েছে তেহরান। মধ্যস্থতাকারী কাতারের কাছে বার্তা পাঠিয়ে আলোচনা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে ইরান।
Kolkata,West Bengal
