আমেরিকার সংবাদসংস্থা অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন চায় প্রথম দফার বৈঠকের শেষে ইরান জাতিসংঘের পরিদর্শকদের তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাক। উল্লেখ্য, এর আগে ওই স্থাপনাগুলিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল।
বিনিময়ে ইরানের কব্জা করে রাখা বিরাট অঙ্কের টাকায় একটি অংশ ছাড় দিতে পারে আমেরিকা৷ প্রথম পর্যায়ে কাতারে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল থেকে অর্থ ছাড়া হতে পারে। এই অর্থ মানবিক প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে বৃহত্তর প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
শনিবার ওয়াশিংটন ছাড়েন জেডি ভ্যান্স। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে পাকিস্তান তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।”
ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, “আমি মাত্র এক বা দুই দিনের জন্য সেখানে থাকতে পারব। আশা করছি, পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবাননের যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি হবে।”
ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি।
রবিবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক স্কি রিসর্টে প্রথম দফার বৈঠক হওয়ার কথা। ভ্যান্স ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং লেবানন যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি চান। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি “বাস্তব কাঠামো” তৈরির লক্ষ্যও রয়েছে।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে যে বৈঠকের শেষে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেবে। সর্বশেষ পরিদর্শন হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে।
বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের জব্দ সম্পদের একটি অংশ ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে। এর সূচনা হতে পারে কাতারে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল থেকে।
আলোচনার আগে ভ্যান্স আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংবাদমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে এবং উত্তেজনাও কিছুটা কমেছে।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আলোচনাকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করতে পারেন। লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে দেশীয় রাজনৈতিক চাপের মুখে তিনি এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।