Last Updated:
কুয়েত ও বাহরিনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের আইআরজিসি। পাল্টা মার্কিন হামলা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া।
তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র আকার নিল। রবিবার ভোরে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ ইউনিট যৌথভাবে এই অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং বাহরিনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পাল্টা হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
অন্যদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ‘শত্রু’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। পরিস্থিতির জেরে কুয়েত জুড়ে এয়ার রেইড সাইরেন বাজানো হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাহরিনেও সাইরেন বাজানো হয়।
এদিকে, মার্কিন হামলার জেরে যুদ্ধবিরতি কার্যত সংকটের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছে ইরান। আইআরজিসির হুঁশিয়ারি, তাদের নির্দেশ অমান্য করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর কাছে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ এম/টি কিকু-তে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর দাবি, দুই মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ওই জাহাজে একমুখী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, হরমুজ প্রণালীর কাছে সিরিক দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। পাশাপাশি কেশম দ্বীপের একটি গ্রামেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি ফের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, তাহলে ওয়াশিংটন আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমেরিকা সামরিক উপায়ে অভিযান সম্পূর্ণ করবে। টানা দ্বিতীয় দিনের সামরিক সংঘর্ষে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Kolkata,West Bengal
