তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মন্ত্রকের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তা “ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর” ও “তথ্যগতভাবে ভুল”।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাজনাথ সিং যে সময় ওই বক্তব্য দেন, তখন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশে দাবি করা হচ্ছিল যে অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলটরা নিহত হয়েছেন।
মন্ত্রকের বক্তব্য, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল। অপারেশনের সাফল্যকে খাটো করা এবং সাধারণ মানুষের মনোবল দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই এই ভুয়ো প্রচার চালান হচ্ছিল। রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য ছিল শুধুমাত্র সেই ভুয়ো দাবির জবাব, সমস্ত সেনা হতাহতের প্রসঙ্গে নয়। মন্ত্রকের আরও দাবি, সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের আসল উদ্দ্যেশ্য ছিল অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের একটি সঠিক ও গর্বের বিবরণ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই অভিযানে ১০০-রও বেশি জঙ্গি এবং পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) সংলগ্ন পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ও সামরিক পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। মন্ত্রকের মতে, এই অভিযান ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর নিখুঁত পরিকল্পনা, সাহস ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ এবং ভারতের শত্রুদের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা।
সরকার শুক্রবার অপারেশন সিঁদুরে কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হওয়া ছয় সেনা সদস্যের নাম প্রকাশ করেছে। তাঁরা হলেন—
সুবেদার মেজর পবন কুমার
রাইফেলম্যান সুনীল কুমার
ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার
অগ্নিবীর মুরলী নায়েক
হাবিলদার সুনীল কুমার সিং
ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার
এই ছয় বীর সেনার নাম নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে খোদাই করা হবে।
এছাড়াও সরকার জানিয়েছে, শহিদদের পরিবার ও নির্ভরশীলদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।