প্রকাশ সিন্হা, কলকাতা : প্রোমোটারকে পৈতৃক ভিটে দিয়েছিলেন ফ্ল্যাট পাবেন ভেবে। সেই বৃদ্ধের সঙ্গেই হয়েছে চরম প্রতারণা। ফ্ল্যাট তো পানইনি, উল্টে টাকা দাবি করা হয়েছে তাঁর থেকে। প্রোমোটারের নাম জয় এস কামদার। ইতিমধ্যেই ইডি- র হাতে গ্রেফতার করেছে বেহালার এই ব্যবসায়ীকে। একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর নামে। সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত প্রতারণা মামলা, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে হওয়া ইডি মামলা, গোটা প্রতারণা চক্রেই বিভিন্ন ভাবে নাম জড়িয়েছে জয় এস কামদারের। এই প্রোমোটার-ব্যবসায়ীর নামে অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ গিয়েছিলেন ৮১ বছরের অশীতিপর বৃদ্ধ ডক্টর প্রবীর মুখোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তভার নিয়েছে ইডি। ইতিমধ্যেই তাঁর ঠিকানায় গিয়েছে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৃদ্ধের বয়ান রেকর্ড করেছেন ইডি আধিকারিকরা। বৃদ্ধের ভবানীপুরের পৈতৃক বাড়ির যেখানে ফ্ল্যাট হয়েছে সেখানেও গিয়েছিলেন ইডি- র তদন্তকারী আধিকারিকরা।
বৃদ্ধ জানিয়েছেন, ‘ইডি আধিকারিকরা, আমার কাছে জানতে চাইছিলেন, আপনি সুবিচার পাবেন এটা আশা করেন? আমি বলেছি হ্যাঁ। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ওঁর উপর আমার অগাধ বিশ্বাস। উনি আশ্বস্ত করেছেন আমায় ন্যায় দেবেন। বৃদ্ধ আরও জানিয়েছেন, ‘জয় কামদার অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করত। অসুস্থ অবস্থাতেই যতবার ওর কাছে গিয়েছি… আঙুল তুলে এমন ব্যবহার করত, যেন সে প্রভু, আর আমি ভৃত্য। আমি অপরাধ করেছি। সে যে আমার পৈতৃক ভিটের উপর তার কনস্ট্রাকশন গড়ল, আমার যে ন্যায্য ফ্ল্যাট পাওয়ার কথা সেটা তো দিলই না, বাড়ির পিছন দিকে তার থেকে ছোট ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করছিল, সঙ্গে ১৭-১৮ লক্ষ টাকা চাইছিল। আমি সেটা দিতে পারব না। আঙুল তুলে হুঙ্কার দিয়ে বলেছিল টাকা দিতে পারলে লিখে দিন যে, আপনাকে ফ্ল্যাট দিচ্ছি। তবে আপনার অবর্তমানে আপনার মেয়েরা এই ফ্ল্যাট ব্যবহার করতে পারবে না। আপনি রামকৃষ্ণ মিশনকে দান করবেন। এটা কী যুক্তি, বুঝতেই পারিনি। আমার সম্পত্তি আমি কী করব, তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যে রামকৃষ্ণ মিশনকে দান করতে হবে। এটা কী মেনে নেওয়া যায়। আঙুল তুলে হুঙ্কার দিয়ে বলত। চিৎকারে ঘর কাঁপত। আমি অসুস্থ মানুষ। কথা বলতে পারতাম না। মাথা নিচু করে উঠে চলে আসতাম। কোনও সৌজন্যবোধ নেই। ইডি আধিকারিকদের সব জানিয়েছে। ওনারা সুন্দর সহযোগিতা করেছেন। সব শুনেছেন। বলেছেন ন্যায় পাবই।’
এতদিন অভিযোগ না করা প্রসঙ্গেও বৃদ্ধ বলেছেন, ‘যখন জেনেছিলাম নেতৃত্বের হাত ওদের মাথায়, তখন বুঝেছিলাম প্রশাসনের কাছে গিয়ে কোনও সাহায্য পাবো না। উল্টে আমাকেই অন্যভাবে হেনস্থা করতে পারে।’