নাগপুর: সাইবার প্রতারণার ঘটনায় গ্রাহক নিজেই টাকা ট্রান্সফার করলে ক্ষতির দায় কি শুধুই তাঁর? নাগপুর জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের একটি সাম্প্রতিক নির্দেশ এই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে। একটি FedEx পার্সেল প্রতারণার ঘটনায় প্রায় ৬ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা খোয়া যায় এক মহিলার। ওই মহিলাকে ৫ লক্ষ ১৮ হাজার টাকার বেশি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ICICI Bank-কে। পাশাপাশি ৯ শতাংশ বার্ষিক সুদ, ২৫ হাজার টাকা মানসিক হয়রানির ক্ষতিপূরণ এবং ১০ হাজার টাকা মামলার খরচ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
আরও পড়ুন: টেকটন নাকি সেলটস, কোন কমপ্যাক্ট SUV কিনলে আপনার লাভ বেশি?
ঘটনাটি ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারির। গুরগাঁওয়ের ওই মহিলার কাছে FedEx-এর আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ফোন করা হয়। তাঁকে বলা হয়, তাঁর নামে বুক করা একটি আন্তর্জাতিক পার্সেলে দুটি পাসপোর্ট, পাঁচটি এটিএম কার্ড, ৩০০ গ্রাম গাঁজা এবং একটি ল্যাপটপ রয়েছে। তিনি পার্সেলটি বুক করেননি জানালে তাঁকে পরিচয় অপব্যবহারের কথা বলে পুলিশি ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়।
ভয়ে তিনি চারটি পৃথক লেনদেনে মোট ৬ লক্ষ ৯৩ হাজার ৪৩৭ টাকা প্রতারকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠান। প্রতারকদের ওই অ্যাকাউন্ট ICICI Bank-এ ছিল। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত ব্যাঙ্কে জানান এবং জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালেও অভিযোগ করেন। ব্যাঙ্ক প্রথমে সাময়িকভাবে টাকা ক্রেডিট করলেও পরে তা ফিরিয়ে নেয়। ব্যাঙ্কের যুক্তি ছিল, প্রতিটি লেনদেন OTP দিয়ে অনুমোদিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পুরুলিয়ায় শুরু হল ‘হর ঘর তেরঙা’ যাত্রা, র্যালিতে পড়ুয়াদের পাশাপাশি ছিলেন ছৌ নৃত্য শিল্পীরাও
মহিলা পরে ব্যাঙ্কিং ওম্বুডসম্যানের দ্বারস্থ হন। সেখানে বিতর্কিত অর্থের প্রায় ২৫ শতাংশ দেওয়ার নির্দেশ এলেও তিনি সন্তুষ্ট হননি। এরপর উপভোক্তা কমিশনে অভিযোগ করেন।
কমিশন ব্যাঙ্কের যুক্তি খারিজ করে জানায়, সাইবার প্রতারণা অপরাধ হলেও গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং প্রতারণার খবর পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ করা ব্যাঙ্কের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কমিশনের মতে, এই ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক যথাযথ নজরদারি ও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই পরিষেবায় গাফিলতি ও অবহেলার জন্য ICICI Bank-কে দায়ী করা হয়েছে।