এটি ছিল পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়ে সিসিএস-এর চতুর্থ বিশেষ বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও) জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব সিসিএস-কে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এলএনজি, এলপিজি ও সার-সহ পেট্রোলিয়াম পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানান। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও ব্যাহত হয়েছে। এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর, যার মাধ্যমে ভারত তার অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানি করে।
জ্বালানি ও এলপিজি সরবরাহের উপর নজর:
মন্ত্রিপরিষদ সচিব সিসিএস-কে জানান, ভারত ইতিমধ্যেই এলপিজি সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করেছে এবং প্রধান পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুত ও সরবরাহ বর্তমানে পর্যাপ্ত রয়েছে। পিএমও জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি তেল শোধনাগারগুলি ১০০ শতাংশেরও বেশি সক্ষমতায় কাজ করছে, যার ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
সরকার পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) সংযোগ বাড়ানো, জাতীয় গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিল্প ক্ষেত্রে এলপিজির বিকল্প হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি, এলএনজি আমদানি ও রিগ্যাসিফিকেশন পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং পাইপলাইন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অর্ডার, ২০২৬-এর আওতায় পাইপলাইন ও শেষ মাইল সংযোগের জন্য সময়সীমাবদ্ধ অনুমোদনের বিষয়গুলিও পর্যালোচনা করেছে।
রবি মরশুমের জন্য সার সরবরাহ:
আসন্ন রবি মরশুমে সারের চাহিদাও সিসিএস বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয় এবং বিকল্প উৎস থেকে সার সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, ‘‘সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
নাবিক ও প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা:
সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দেশীয় ও বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, নাবিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য সময়মতো তথ্য, জরুরি সহায়তা এবং কাউন্সেলিং প্রদানের একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। তিনি বলেন, ‘‘এই সংঘাতের প্রভাব থেকে দেশের নাগরিক এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষিত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’’
জ্বালানি নিরাপত্তায় রিনিউয়েবল এনার্জির উপর জোর:
ভারতের আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
তিনি বলেন, ভারতের জ্বালানি স্বনির্ভরতা আরও শক্তিশালী করতে সৌরশক্তি-সহ অন্যান্য অ-জীবাশ্মভিত্তিক নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সংকট থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘‘সমগ্র সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ’ (Whole of Government Approach) গ্রহণ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য একটি অভিন্ন সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন, যাতে দেশের নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা:
গত কয়েক সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে সামুদ্রিক পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজের উপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত।
এই সপ্তাহের শুরুতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল পুনরায় চালুর আহ্বান জানান।