ভিসা সংক্রান্ত জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, দেশীয় কর্মীদের বেতন ও চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি শ্রম শংসাপত্র প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করা হয়েছে। এই বড় IT সংস্থাগুলির PERM আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় H-1B ভিসায় আমেরিকায় কর্মরত বহু দক্ষ পেশাদারের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথে বড় বাধা তৈরি হয়েছে।
অনেক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই প্রশাসনিক স্থগিতাদেশ আমেরিকায় স্বপ্নের জীবনকে কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন অভিবাসন বিধি অনুযায়ী, বৈধ অভিবাসন-স্থিতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান এবং স্পনসরকারী সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। PERM প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নতুন আবেদন জমা দিতে পারবে না। পাশাপাশি, আগে জমা পড়া আবেদনগুলির প্রক্রিয়াও আটকে যেতে পারে। ফলে বহু কর্মীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন অস্থায়ী ভিসায় আমেরিকায় বসবাস করার ফলে পরিবারগুলির সামনে একাধিক বাস্তব সমস্যা দেখা দিতে পারে। H-4 ভিসাধারী নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে কাজের অনুমতিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তাঁদের কাজের অনুমতি নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত অনুমোদনের উপর নির্ভরশীল হতে পারে।
অন্যদিকে, নির্ভরশীল ভিসায় থাকা সন্তানদের বয়স ২১ বছর পেরিয়ে গেলে তাঁদের অভিবাসন-স্থিতি নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ভিসার জন্য আবেদন করা বা অন্য কোনও বৈধ অভিবাসন-পথ খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু সরকারি নথিপত্রের জটিলতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রিন কার্ডের আবেদন আটকে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পক্ষে সহজে নিয়োগকারী সংস্থা পরিবর্তন করা, পদোন্নতি গ্রহণ করা কিংবা অন্য প্রযুক্তিগত বিভাগে কাজ শুরু করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে এই ধরনের পরিবর্তনের প্রভাব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসার ধরন, অভিবাসন-আবেদনের পর্যায় এবং প্রযোজ্য নিয়মের উপর।
এর ফলে বহু যোগ্য ইঞ্জিনিয়ার বর্তমান চাকরিতে আটকে পড়ার আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে, যখন তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে সংস্থাগুলি নিজেদের কাজের ধরন ও কর্মী নিয়োগের কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে, তখন এই পরিস্থিতি কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
বাড়ি কেনা, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা এবং সন্তানদের পড়াশোনা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কয়েক দশক ধরে আমেরিকার বিভিন্ন শহরতলিতে সংসার গড়ে তোলা পরিবারগুলিকেও এখন প্রশাসনিক পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের ফলাফলের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, আমেরিকায় অভিবাসন নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ এবং বিদেশি পরামর্শদাতা সংস্থার কর্মী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়তি নজরদারির ইঙ্গিত মিলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সংস্থাগুলি আইনি পদক্ষেপ এবং নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে IT পরিষেবা শিল্পের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার খরচ এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়তে পারে।
ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের কাছে এই ঘটনা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রচলিত ব্যবস্থার উপর নির্ভর করার ঝুঁকিও তুলে ধরেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খোঁজার প্রবণতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি, ভারতের ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ফিরে আসার কথা ভাবতে পারেন কিছু পেশাদার।