নয়াদিল্লি: বড় রাজনৈতিক পালাবদলের পথে পাকিস্তান? বদলে যাবে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র? শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ The Economist-এর দাবি, পাকিস্তানকে আরও টুকরো করতে চাইছেন দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। পঞ্জাব, সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান–এই চার প্রদেশকে ভেঙে ১২ থেকে ১৫ টুকরো করতে চাইছেন তিনি। ১২ থেকে ১৫টি নতুন প্রদেশ এবং ১৬০টি ছোট ছোট অঞ্চল তৈরি করাই লক্ষ্য তাঁর। (Pakistan Break Up)
মুনিরের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটলে, শুধুমাত্র পাকিস্তানের মানচিত্রেই পরিবর্তন চোখে পড়বে না, আমূল পরিবর্তন ঘটবে দেশের অন্দরে ক্ষমতার সমীকরণ। বৃহৎ প্রদেশগুলিকে ভেঙে টুকরো করলে ক্ষমতার লড়াইয়ে বিকল্প শক্তিগুলি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সামরিকীকরণ ঘটতে পারে, সেনাবাহিনীর অনুগত থাকতে হতে পারে প্রশাসনকে, কাজ করতে হতে পারে সেনার অঙ্গুলিহেলনে। (Asim Munir)
আরও পড়ুন: ভারতে ব্যবসায় বাধা ইলন মাস্ককে? সরাসরি কাদের দিকে আঙুল ধনকুবেরের? ধন্যবাদ জানালেন রাহুল গাঁধীকে
পাকিস্তানকে আরও টুকরো করার সপক্ষে একাধিক যুক্তি খাড়া করা হচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম হল পঞ্জাব, সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানের জনসংখ্যা এবং আয়তনের মধ্যে বিদ্য়মান ফারাক। পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ পঞ্জাব। সেখানে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের বাস, যা পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। অন্য দিকে, আয়তনে বৃহত্তম হওয়া সত্ত্বেও বালুচিস্তানে বাস মাত্র ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের।
The Economist জানিয়েছে, বিপুল জনসংখ্যার কারণে পঞ্জাব প্রদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যেমন, সাধারণ সরকারি পরিষেবা পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গ্রাম থেকে শহরে যেতে হয় মানুষজনকে। পঞ্জাবের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও কম সংখ্যক মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জলের নির্ভরযোগ্য সুবিধা পান এই মুহূর্তে। মুনিরের যুক্তি, আয়তনে বিশালাকার হওয়ায় প্রদেশগুলিতে শাসনকার্য ঠিক মতো পরিচালনা করা যাচ্ছে না। দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে তাই।
আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে যাত্রীভর্তি বিমানে বাজ পড়ল, তুবড়ে ঢুকে গেল নাকের অংশ, ভয়ঙ্কর অবস্থা IndiGo-র প্লেনের
প্রশাসনিক কাজকর্মের দোহাই দেওয়া হলেও, পাকিস্তানকে আরও টুকরো করার নেপথ্যে বৃহত্তর কৌশল দেখছেন সমালোচকরা। পাকিস্তান তৈরি হওয়ার পর থেকে অর্ধেকেরও বেশি সময় সামরিক শাসন কায়েম ছিল সেখানে। নির্বাচিত সরকারকে সেনার অধীনেই কাজ করছে হয়েছে। দেশকে ছোট টুকরোয় ভাগ করে যে সব সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন মুনির, তার জন্যও সেনাই দায়ী বলে মত সমালোচকদের। তাঁদের মতে, দেশের মূল্যবান জমি-সম্পত্তি, ব্যবসার উপর সেনার নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় অংশের উপর তাদের কর্তৃত্ব কায়েম রয়েছে। ফলে প্রদেশগুলিকে ভেঙে ছোট করলে মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা ভুল। কারণ স্থানীয় প্রশাসন সবকিছুর জন্য কেন্দ্রের উপরই নির্ভরশীল। এতে বরং সেনার প্রভাব আরও বাড়বে।
পঞ্জাব, সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান শুধুমাত্র কোনও প্রদেশ নয় পাকিস্তানের রাজনীতিতে ক্ষমতার উৎস হিসেবেও দেখা হয় ওই চার প্রদেশকে। পঞ্জাব পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের ঘাঁটি। সিন্ধ প্রদেশকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির গড় হিসেবে ধরা হয়। সামরিক শাসন চলাকালীনও ওই দুই প্রদেশ ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র থেকেছে বরাবর। সেই প্রদেশকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা তাই রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। পাক সেনা একচেটিয়া ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছে কি না, উঠছে প্রশ্ন। তবে এই প্রথম নয়, পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবালকেও বড় প্রদেশগুলি ভেঙে ছোট করার কথা বলেছিলেন এর আগে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে মুনিরের প্রভাব যত বাড়ছে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে ততই। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে সখ্য রয়েছে মুনিরের। বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে যাঁর উত্থান ঘটেছিল, সেই ইমরান খানকে জেলবন্দি রাখার পিছনেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।
খাইবার পাখতুনখোয়া নিয়ে এমনিতেই চাপে পাকিস্তান। সেখান থেকেই সম্প্রতি ইসলামাবাদ অভিযানে বেরোন ইমরানের সমর্থকরা। সেখানকার প্রদেশ সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে বার বার। পাশাপাশি, আফগান তালিবানের প্রভাবও সেখানে বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বালুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তিগুলি অতিসক্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা গেলে, বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তিগুলিও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন মুনির।
Mamata Banerjee News : এবার বিকাশ ভট্টাচার্যর পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ABP Ananda