Last Updated:
ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে বড় পদক্ষেপ ইরানের। আমেরিকার দেওয়া শর্ত মেনে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছাড়তে রাজি হল তেহরান। খুব শীঘ্রই হতে পারে শান্তি চুক্তি, হরমুজ খোলার ইঙ্গিত।
ওয়াশিংটন: আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে মাসের পর মাস ধরে চলা টানাপোড়েন আর যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মধ্যে এখন একটা বড় খবর সামনে এসেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান তাদের ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার (উচ্চমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। এই ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডারটাই আমেরিকা আর ইজরায়েল অনেকদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সবচেয়ে বড় বিপদ বলে মনে করে আসছিল। রিপোর্টে আমেরিকান অফিশিয়ালের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তেহরান একটা সাধারণ সম্মতি দিয়েছে যে ওরা ওদের কাছে জমা থাকা ‘এনরিচড’ ইউরেনিয়াম ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। যদিও এখনও এটা স্পষ্ট হয়নি যে এই ইউরেনিয়াম কোনও তৃতীয় দেশকে দেওয়া হবে, ধ্বংস করা হবে, না কি কোনও আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। এই বিষয়ে পরের আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কতটা বিপজ্জনক এই ইউরেনিয়াম?
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর অনুমান অনুযায়ী, ইরান-এর কাছে প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম ৬০% পর্যন্ত এনরিচড ইউরেনিয়াম আছে। ইজরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, যদি এটাকে আরও বিশুদ্ধ করা হয় তাহলে এর থেকে অনেক পারমাণবিক অস্ত্র বানানো যেতে পারে। এই কারণেই আমেরিকা বারবার এই বিষয়টিকে আলোচনার সবচেয়ে বড় শর্ত বানিয়ে রেখেছিল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ইউরেনিয়াম স্টক-কে আগে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলেছিলেন এবং স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিলেন যে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তাহলে সামরিক বিকল্পও টেবিলে আছে।
আমেরিকা কীভাবে চাপ তৈরি করেছিল?
নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান প্রথমে এই প্রাথমিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চায়নি। ইরান চেয়েছিল এই বিষয়টা পরে আলোচনায় উঠুক। কিন্তু আমেরিকান আলোচক দল স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছিল যে, যদি শুরুতেই এই বিষয়ে কোনও সমঝোতা না হয়, তাহলে আমেরিকা আলোচনা ছেড়ে আবার সামরিক হামলা শুরু করতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকান সেনাবাহিনী ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিগুলোর উপর হামলার জন্য অনেকগুলো বিকল্পও প্রস্তুত রেখেছিল। এর মধ্যে ছিল আন্ডারগ্রাউন্ড নিউক্লিয়ার ঘাঁটিতে বাঙ্কার ভাঙার জন্য ভারী বোমা দিয়ে হামলা, ইস্ফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে সরাসরি বোমাবর্ষণ এবং আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ কমান্ডো অপারেশনের মতো বিকল্প। যদিও ট্রাম্প কমান্ডো অপারেশনে অনুমোদন দেননি বলেই জানা গিয়েছে।
Kolkata,West Bengal
