চেন্নাই: মুদিখানার দোকানে পাঠানো হয়েছিল। সেই থেকে খোঁজ ছিল না কোনও। শেষ পর্যন্ত জলাশয়ের কাছ থেকে উদ্ধার হল ছোট্ট মেয়ের দেহ। গোটা ঘটনায় উত্তাল তামিলনাড়ু। রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী ‘থলপতি’ বিজয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিজয়। (Minor Girl Abducted and Killed)
কোয়েম্বাত্তূর থেকে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পাড়ার মুদিখানার দোকান থেকে জিনিস কিনতে বেরিয়েছিল ১০ বছরের মেয়েটি। কিন্তু তার পর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বাড়ির লোকজন থেকে পাড়ার লোকজন মিলে বিস্তর খোঁজাখুজি করেন। শেষ পর্যন্ত সুলুরে একটি হ্রদের কাছ থেকে মেয়েটির দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে খবর। (Thalapathy Vijay)
এই ঘটনায় কার্তিক এবং মোহনরাজ নামের দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং খুন করে বলে অভিযোগ। মেয়েটির উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ডাক্তারি পরীক্ষার পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় ফুঁসছে তামিলনাড়ু।
கோயம்புத்தூரில் நேற்று 10 வயது சிறுமிக்கு நிகழ்ந்த கொடூர சம்பவம் மிகுந்த வேதனையையும், அதிர்ச்சியையும் அளிக்கிறது. இத்தகைய மனிதநேயமற்ற மற்றும் மன்னிக்க முடியாத குற்றச் செயல்கள் நமது சமூகத்தில் ஒருபோதும் ஏற்றுக்கொள்ளப்பட முடியாது.
தங்கள் உயிருக்குயிரான குழந்தையைப் பிரிந்து வாடும்…
— CMOTamilNadu (@CMOTamilnadu) May 23, 2026
মেয়েটির পরিবারের লোকজন এবং আত্মীয়স্বজনরা সুলুর থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখান। বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেন তাঁরা। মর্গ থেকে তাঁরা দেহ নিতেও রাজি হননি। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে আশ্বাস না পেলে দেহ নেবেন না বলে জানিয়ে দেন। এমনকি বিজয়ের ভূমিকারও সমালোচনা করেন কেউ কেউ। তাঁদের বক্তব্য, “মুখ্য়মন্ত্রীর বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত দেহ নেব না আমরা। পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলাম। এখন উনি বিবৃতিও দিচ্ছেন না, আশ্বস্তও করছেন না। এতেই বোঝা যায়, নতুন সরকার এলেও কোনও পরিবর্তন হবে না।”
আরও পড়ুন: রাজ্যকে টাকা পাঠাল কেন্দ্র, দুই খাতে মঞ্জুর হল কত, জানালেন শুভেন্দু অধিকারী
সেন্থিল কুমার নামের মেয়েটির পরিবারের এক আত্মীয় ANI-তে বলেন, “কী হয়েছে, তা-ই জানি না আমরা। প্রথমে বলল মেয়ে নিখোঁজ। তার পর দেহ পাওয়া গিয়েছে বলে জানতে পারলাম। এর পর শত শত পড়ুয়া, সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। বিচারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করা হয়।” তামিলনাড়ুর ডিজি সন্দীপ রাই রাঠৌর কোয়েম্বাত্তূর ছুটে গিয়েছেন ইতিমধ্যেই। তদন্তপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছেন তিনি।
তবে গোটা ঘটনায় টানাপোড়েন চরমে উঠেছে। বিজয়ের তরফে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘কোয়েম্বাত্তূরে ১০ বছরের মেয়ের সঙ্গে যে ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং চমকে দেওয়ার মতো। এই ধরনের অমানবিক অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। আমাদের সমাজে এসব চলতে পারে না। মহিলা এবং শিশুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে দোষীরা যাতে চরম শাস্তি পায়, তা নিশ্চিত করবে তামিলনাড়ু সরকার’। TVK বিধায়করা হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখাও করেছেন। রাজ্যের মন্ত্রী এমএস সম্পত বলেন, “কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।”
তবে বিতর্ক থামছে না। সরাসরি বিজয়ের দিকে আঙুল তুলেছে DMK. বিজয়ের হাতে তামিলনাড়ুর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা। মাত্র ১২ দিনে রাজ্যে অপরাধ বাড়তে শুরু করেছে বলে দাবি তাদের। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের দাবি, গত ১২ দিনে নতুন সরকারের আমলে ৩০টি গুরুতর অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। সেই তালিকায় যৌন নির্যাতন থেকে গাঁজা পাচারের মতো ঘটনা রয়েছে। বিজেপি আবার DMK-কেই কাঠগড়ায় তুলেছে। তাদের দাবি, আগের সরকার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাকে নড়বড়ে অবস্থায় রেখে গিয়েছে।