নয়াদিল্লি: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্য়ান্সের মধ্য়ে মতবিরোধের খবর সামনে এল এবার। সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে এমনই দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছ, ভারতকে নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় ট্রাম্প এবং ভ্য়ান্সের মধ্যে। ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীকে নামানোর পক্ষে সওয়াল করেন ভ্য়ান্স। কিন্তু তাঁর সেই সুপারিশ কার্যত খারিজ করে দেন ট্রাম্প। (India Peacekeeping Force for Ukraine)
গত ২৩ জুন ‘Regime Change’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে, যাতে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে হওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, দ্বিতীয়বার ট্রাম্প শপথগ্রহণের পর ১০ কেটেছিল সবে। ইউক্রেনের যুদ্ধে ভারত এবং সৌদি আরবের বাহিনী নামাতে চেয়েছিলেন ভ্যান্স। ইউক্রেনে দুই দেশের সেনাকে শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসেবে মোতায়েনের পক্ষে ছিলেন তিনি। (Donald Trump on India)
আরও পড়ুন: সন্তানধারণে অসফল, বিফল IVF-ও, সিমেন অ্যালার্জিও কারণ হতে পারে বন্ধ্য়াত্বের!
বইটিতে বলা হয়েছে, ভ্য়ান্স সেকথা পাড়তেই সঙ্গে সঙ্গে খারিজ করে দেন ট্রাম্প। মৃদু হেসে বলেন, “ভারতীয়রা একাজ করবেই না। এই ধরনের কাজের জন্য একটি পয়সাও খরচ করবে না তারা।” অবসরপ্রাপ্ত সেনা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলোগের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হয় বলে জানা গিয়েছে। ইউক্রেন এবং রাশিয়ায় তাঁদের বিশেষ দূত নিয়োগ করেছিলেন ট্রাম্প। যুদ্ধে ইতি টানার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা চলছিল সেখানে।
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে কিথ ‘An American First Plan: Trump’s Historic Peace Deal for Russia-Ukraine War’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব পেশ করেন, যাতে বলা হয়েছিল, অধিকৃত ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলদারিকে স্বীকৃতি দেবে না আমেরিকা। সেনা নামিয়ে ওই সব অঞ্চল দখলের চেষ্টা হবে না বলে সম্মত হবে ইউক্রেনও। শান্তি বজায় রাখতে ফ্রেঞ্চ এবং ডাচ শান্তিবাহিনীকে নামানোর প্রস্তাব দেন কিথ। কিন্তু NATO-র অন্তর্ভুক্ত কোনও দেশের সেনা নামানোয় আপত্তি জানান ভ্যান্স। তাঁর যুক্তি ছিল, তাতে রাশিয়া আরও চটতে পারে। কারণ NATO-র বিরুদ্ধে বরাবর সওয়াল করে আসছে তারা।
সেই পরিস্থিতিতে ইউরোপের বাইরের কোনও দেশের সেনা নামানো যায় কি না, আলোচনা শুরু হয়। তখনই ভারতের কথা তোলেন ভ্যান্স। কিন্তু ট্রাম্প সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন। রাশিয়া বনাম ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারত বরাবর নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছে। যুদ্ধসমাপ্তির পক্ষেই সওয়াল করেছে দিল্লি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেখানেও ভারতের তরফে আলাপ-আলোচনার মাধ্য়মে যুদ্ধসমাপ্তির সুপারিশ করা হয়। ইউক্রেনে শান্তিবাহিনী পাঠানো নিয়ে সরকারি ভাবে কখনওই কিছু জানানো হয়নি।
যদিও কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুরের মুখে শান্তিবাহিনীর কথা শোনা গিয়েছিল। সেবছর ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে তারুরকে বলতে শোনা যায় যে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে ভারত শান্তিবাহিনী পাঠাতে পারে। এর আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের অনুরোধে দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, লেবাননে শান্তিবাহিনী পাঠিয়েছে ভারত।
TMC – Paresh Pal News | ব্যাঙ্কশাল কোর্ট থেকে বেরোতেই বিক্ষোভের মুখে পরেশ পাল | ABP ANANDA LIVE