কলকাতা: নির্বাচনের পরও চর্চায় মাছ-রাজনীতি। আমহার্স্ট স্ট্রিটে মাছ উৎসব বিজেপি-র। সেখানে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলল গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় মিথ্যাচার করেছেন, বিভ্রান্ত করেছেন মানুষকে। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে মাছ, ডিম আসে বলেই বাঙালিরা খেতে পায়, এমনও দাবি তুললেন বিজেপি নেতৃত্ব। (BJP Fish Festival)
মাছ উৎসব থেকে তাপস বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যাচার করেছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ওই শিল্পটাকে একেবারে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। বাঙালির মাছ-ভাত তো উনি বন্ধ করে দিয়েছেন! পর্যাপ্ত পরিমাণ যে মাছের প্রয়োজন বাংলায়, ১৫ বছরে তার ব্যবস্থা করেছেন? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে মাছ আসে তাই বাংলার বাঙালিরা মাছ, ডিম খেতে পায়। মাছে বা ডিমে বাঙালি যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তেমনই রোজগার নেই, টাকা নেই পকেটে, মাছ খাবে কোত্থেকে?”তাপস আরও বলেন, “মাছ এতদিন খেত তৃণমূলের সিন্ডিকেট, তোলাবাজরা। এবার বাংলার সকলে যাতে মাছ খায়, তার ব্যবস্থা বিজেপি করবে। (BJP News)
আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়, শপথ অনুষ্ঠানে হঠাৎ হাজির তৃষা, আরও জোর পেল জল্পনা
অন্য দিকে, দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর চ্যালা-চামুণ্ডারা এতদিন কত মিথ্যে কথা বলে লোককে বিভ্রান্ত করেছেন। আমরা তার উত্তর মুখে দেব না, কাজে দেব। আমাদের সরকার সেভাবেই কাজ করবে। তাই আমাদের কর্মীরা প্রথমেই বাঙালিকে মাছ-ভাত খাওয়াচ্ছেন। আর বাংলার মাছ খাওয়াচ্ছি আমরা, অন্ধ্রের নয়। ১৫ বছরে যে পশ্চিমবঙ্গকে মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারেনি, অন্ধ্র থেকে এনে মাছ খাওয়াচ্ছে, সে বলছে বিজেপি এসে নাকি মাছ বন্ধ করে দেবে! বাংলার চাল, বাংলার মাছ দিয়ে মাছ ভাত খাওয়া।”
আরও পড়ুন: ঋজু দত্তকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল, দলকে তাঁর বার্তা, ‘কথা দিচ্ছি—আবার দেখা হবে’
নির্বাচনে জয়লাভের পর নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আর তার পরই খাস কলকাতার বুকে মাছ উৎসব বিজেপি-র। সেখানে মেনুতে ছিল ভাত, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, মাছের কালিয়া। সেখানে দেখা গেল তাপস রায়, দিলীপ ঘোষদের। পাতপেড়ে মাছ-ভাতা খেলেন তাঁরা। আর সেখান থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন তাপস। ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা পর্যাপ্ত মাছের ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ তুললেন। (BJP News)
কী উপলক্ষে এই আয়োজন, তা জানতে চাইলে নেতৃত্ব বলেন, “আগে বলা হচ্ছিল বিজেপি সরকার এলে মাছ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই জানানো হচ্ছে যে, এমন কোনও ব্যাপার নেই। সাধারণ মানুষের খাবার কোনও দিন বন্ধ হবে না।” বিজেপি এলে মাছ-মাংস বন্ধ খাওয়া হয়ে যেতে পারে বলে ভোটের আগে যে ধারণা তৈরি করা হয়েছিল, সেই ধারণা ভেঙে দিতেই এই আয়োজন বলে জানান তাঁরা। শুধু তাই নয়, চালানি মাছ নয়, বাংলার মাছই খাওয়া হবে বলে জানালেন।