মুম্বই: ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় পেঁপে পাতার নির্যাস প্রয়োগে প্লেটলেট কাউন্টের উন্নতি হয় বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই নিয়ে এবার বিতর্কে দেশের অন্যতম সেরা ক্যান্সার চিকিৎসার প্রতিষ্ঠান টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার। তাদের দাবি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজি-গ্লোবাল অঙ্কোলজি (JCO-GO)। যদিও টাটা মেমোরিয়াল নিজেদের অবস্থানেই অনড় এখনও পর্যন্ত। (Papaya Extract on Cancer Patients)
প্লেটলেটের মাত্রা স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদে পেঁপে পাতার নির্যাস প্রয়োগের চল রয়েছে আয়ুর্বেদে। আধুনিক ফাইটোথেরাপিতেও পেঁপে পাতার নির্যাসের চল রয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে প্লেটলেট যেভাবে কমে যায়, তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই টোটকা ব্যবহার করা হয়। (Tata Memorial Centre)
মার্চ মাসে টাটা মেমোরিয়ালের তরফে ক্য়ান্সার রোগীদের উপর পেঁপে পাতার নির্যাস প্রয়োগের পক্ষে সওয়াল করা হয়। তারা জানায়, ২১৯ জন ক্যান্সার আক্রান্তকে নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলে। কেমোথেরাপি চলাকালীন তাঁদের শরীরে পেঁপে পাতার নির্যাস প্রয়োগ করা হয়, যাতে তাঁদের প্লেটলেট কাউন্টের উন্নতি হয়। যাঁদের শরীরে পেঁপে পাতার নির্যাস প্রয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের প্লেটলেট দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কেমোথেরাপি পিছোতেও হয়নি। যাঁরা প্লাসিবো গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের স্বাভাবিক হতে তুলনামূলক বেশি সময় লেগেছে।
The much celebrated Papaya leaf extract for low platelet count in chemotherapy patients has now received an Expression of Concern from the Journal due to doubts regarding fraud after I notified the Journal.https://t.co/IdFzVzWjX1
This is a black spot on Tata Memorial Cancer… pic.twitter.com/oVTeg2HTvb— TheLiverDoc™ (@theliverdoc) July 15, 2026
ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) টাটা মেমোরিয়ালের ওই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল তুলে ধরে। জানায়, Carica papaya leaf extract প্রয়োগে কেমোথেরাপি চলা রোগীদের প্লেটলেট কাউন্টের দ্রুত উন্নতি হয়। চিকিৎসায় বিলম্ব হয়নি তাঁদের। PIB জানায়, আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে পেঁপে পাতা বেশ কয়েক দশক ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে ভারতে। তবে ক্যান্সারের চিকিৎসায় তার কার্যকারিতকার সপক্ষে সীমিত প্রমাণই রয়েছে। সেই আবহে টাটা মেমোরিয়ালের গবেষণা একটি জোরাল প্রমাণ পেশ করেছে। পেঁপে পাতার নির্যাস সাশ্রয়ীও।
আরও পড়ুন: ‘যাঁর যাঁর যাওয়ার আছে, ২১ জুলাইয়ের আগে চলে যান’, কোয়েলের পদত্যাগে আর কী বললেন মমতা?
কিন্তু কেমোথেরাপি চলা রোগীদের উপর পেঁপে পাতার প্রয়োগ এবং তার সপক্ষে সওয়াল নিয়ে ঘোর আপত্তি তোলেন কেরলের হেপাটোলজিস্ট সিরিয়াক অ্যাবি ফিলিপস, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় Liverdoc নামেও পরিচিত। আর তার পরই জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজি-গ্লোবাল অঙ্কোলজির তরফে টাটা মেমোরিয়ালের গবেষণা ও দাবি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ‘এক্সপ্রেশন অফ কনসার্ন’ জারি করে তারা। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় পেঁপে পাতার নির্যাস প্রয়োগের পক্ষে যেভাবে সওয়াল করেছে টাটা মেমোরিয়াল, তাকে ‘টাটা মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতালের ইতিহাসের কালো অধ্যায়’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যদিও এখনও নিজেদের অবস্থানেই অনড় টাটা মেমোরিয়াল। তাদের গবেষকদের মতে, ‘এক্সপ্রেশন অফ কনসার্ন’ বা উদ্বেগ প্রকাশ অসদাচারণ নিয়ে চূড়ান্ত কোনও রায় নয়। কোনও গবেষণা নিয়ে অভিযোগ থাকলে সতর্কতামূলক ভাবে ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়। তাদের জার্নালটি বাতিলও করা হয়নি। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ কুমার প্রভাস ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে বলেন, “কেউ যদি আমাকে চোর বলে, তার মানেই আমি চোর নই। আবার পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করার অর্থও আমি চোর সাব্যস্ত নই।” ক্যান্সার রোগীদের উপর পেঁপে পাতার নির্যাস প্রয়োগ নিয়ে তাঁরা যে গবেষণা তুলে ধরেন, তা বিশেষজ্ঞদের বিচার-বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে যায় এবং আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজির ২০২৫ সালের সম্মেলনেও এ সম্পর্কে মৌখিক বিবৃতি দেওয়া হয় বলে জানান প্রভাস। বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ খতিয়ে না দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা এবং আক্রমণের প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। যাঁরা অভিযোগ তুলছেন, তাঁদের নিজেদের তেমন কোনও কৃতিত্ব নেই, ভাল গুণমানের গবেষণা নেই বলেও কটাক্ষ করেন।
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator