কী আছে এই বিলে?
West Bengal Public Safety and Control of Anti-social Activities Bill, 2026 বিলটি “অসামাজিক কার্যকলাপ বিরোধী” (Anti-social Activity) বিল হিসেবে কার্যকর হতে চলেছে। জনমনে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বিঘ্নিত করা, জীবন বা সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, বৈধ ব্যবসা বা পেশা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করা, বেআইনিভাবে জমি বা সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির বড় ক্ষতি ইত্যাদি আসতে চলেছে এই বিলে। অবৈধ খনি খাদান, বালি উত্তোলন, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অপরাধও এই বিলের আওতায় আসতে চলেছে।
“গুন্ডা” কাকে বলা হবে?
সংঘবদ্ধ অপরাধে নিয়মিত জড়িত ব্যক্তি।
অপরাধে অর্থ জোগানদাতা বা মদতদাতা।
নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তি।
অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক বা মানবপাচার সংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত ব্যক্তি।
সমাজের জন্য বিপজ্জনক বলে পরিচিত ব্যক্তি।
আটক সংক্রান্ত ক্ষমতা:
রাজ্য সরকার, জেলা শাসক (DM) বা পুলিশ কমিশনার প্রতিরোধমূলক আটক করতে পারবেন।
গুরুতর পরিস্থিতিতে বিচার শেষ হওয়ার আগেই আটক রাখা সম্ভব। আটকাদেশ সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।
আটক হওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেওয়ার বিধান।
রাজ্য সরকার ও Advisory Board-এর কাছে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
অ্যাডভাইজার বোর্ড:
হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে বোর্ড গঠন।
বোর্ড আটকাদেশ পর্যালোচনা করবে।
পর্যাপ্ত কারণ না পেলে মুক্তির সুপারিশ করতে পারবে।
এলাকা ছাড়ার নির্দেশ
কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
এক বছর পর্যন্ত ওই এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।
প্রয়োজনে নিয়মিত থানায় হাজিরা দিতে বলা যেতে পারে।
তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তকরণ:
পুলিশকে বাড়ি, গাড়ি বা অন্য জায়গায় তল্লাশির ক্ষমতা।
টাকা, নথি, সম্পত্তি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা।
শাস্তি:
আটক বা বহিষ্কার সংক্রান্ত নির্দেশ অমান্য করলে জেল ও জরিমানা।
অভিযুক্তকে আশ্রয় দিলে শাস্তির বিধান।
আইনের অধীনে অপরাধ জামিন-অযোগ্য (Non-Bailable) হবে।
West Bengal Maintenance of Public Order (Amendment) Bill, 2026
ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান:
দাঙ্গা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ আদায়।
সরকারি সম্পত্তি ও বেসরকারি সম্পত্তি—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
কারা দায়ী হবেন
সরাসরি অপরাধকারী।
উসকানিদাতা।
অর্থদাতা।
সংগঠক।
আশ্রয়দাতা বা সহযোগী।
ক্লেইমস কমিশন:
ক্লেইমস কমিশন ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা সরকার ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে পারবে ক্লেইমস কমিশন-এর মাধ্যমে।
ক্ষতিপূরণের আওতায় থাকবে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি, পুলিশ বা প্রশাসনের প্রতিরোধমূলক ও পুনর্বাসনমূলক খরচ, টাকা আদায়ের পদ্ধতি, ক্ষতিপূরণের টাকা বকেয়া ভূমি রাজস্বের মতো আদায় করা যাবে।
আদালতের এক্তিয়ার সীমিত:
Claims Commission-এর নির্দিষ্ট বিষয়ে দেওয়ানি আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
কমিশনের রায়কে চূড়ান্ত বলে গণ্য করার প্রস্তাব।
এক নজরে এই বিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বিষয়:
প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)।
সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার ক্ষমতা।
“গুন্ডা” ও “অসামাজিক কার্যকলাপ”-এর বিস্তৃত সংজ্ঞা।
জেলা থেকে বহিষ্কার (Externment) করার ক্ষমতা।
তল্লাশি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা।
অপরাধকে Non-Bailable ঘোষণা।
Advisory Board দ্বারা আটকাদেশ পর্যালোচনা।
দাঙ্গা-ভাঙচুরে ক্ষতিপূরণ আদায়।
উসকানিদাতা ও অর্থদাতাকেও দায়ী করা।
Claims Commission গঠন করে ক্ষতির হিসাব ও আদায়।
খবরের ভাষায় বললে, এই বিল দুটি রাজ্য সরকারের হাতে প্রতিরোধমূলক আটক, এলাকা থেকে বহিষ্কার, তল্লাশি, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং দাঙ্গা-ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নতুন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করছে।