সন্দীপ সরকার, কলকাতা: তিনি বাংলা ক্রিকেট দলের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান তরুণ। আইপিএলে খেলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের (Delhi Capitals) হয়ে। মনে করা হয়, ঋদ্ধিমান সাহার পরে ফের যদি বাংলার কোনও উইকেটকিপার-ব্যাটারকে জাতীয় দলের হয়ে ভবিষ্যতে খেলতে দেখা যায়, তবে সেটা হতে পারেন তিনিই। যদিও মাঠের বাইরে গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ হলেন সেই অভিষেক পোড়েল। একটি-দুটি নয়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে ২৩ বছরের ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে!
ঠিক কী অভিযোগ চন্দননগরের ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে?
এক তরুণী মগরা থানায় বেশ কিছুদিন আগেই অভিষেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সূত্রের খবর, ডাক্তারি পড়ুয়া ওই ছাত্রী বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, আপত্তিকর ছবি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যৌন হেনস্থা, বলপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক তৈরির মতো মারাত্মক এক গুচ্ছ অভিযোগ দায়ের করেছিলেন অভিষেক পোড়েলের বিরুদ্ধে। সেই সময় যদিও অভিষেক সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এবিপি লাইভ বাংলাকেও তিনি বলেছিলেন, পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়া নিয়ে তিনি কিছু জানেন না।
যদিও জল সেখানেই থেমে থাকেনি। ওই তরুণীর আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। ১৪ জুলাই সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর বেঞ্চে। সেখানে তরুণীর তিন আইনজীবী – রণদেব সেনগুপ্ত, আকাশ গঙ্গোপাধ্যায় ও আমনদীপ গুপ্ত জানান যে, ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের বিরুদ্ধে ১৯টি ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ধারাগুলি হল – ৬৪ (১), ৬৬, ৬৯, ৭৪, ৭৫ (২), ৭৯, ১১৫ (২), ১১৭ (২), ১২৪, ১২৭ (২), ১০৯ (১), ৩০৮ (২), ৩৫১ (২), ৩৫১ (৩), ৩১৬ (২), ৩১৮ (৩), ৬১ (২), ৩ (৫) এবং আইটি অ্যাক্টের ৬৬ ই/৭২। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে। আইনজীবীরা দাবি করেন, অভিযুক্ত ক্রিকেটারের কাছে থাকা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে অভিযোগকারিণীর বেশ কিছু এমন ছবি রয়েছে, যা প্রকাশ পেলে সম্মানহানি হতে পারে ওই তরুণীর। অবিলম্বে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান আইনজীবী ত্রয়ী।
সরকারী আইনজীবী সূর্যনীল দাস বিচারপতিকে জানান যে, এ ব্যাপারে তাঁরা মগরা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে ৬ জুলাই যোগাযোগ করেছিলেন। মগরা থানা থেকে জানানো হয় যে, অভিযোগকারিণীর কাছ থেকে একটি পেন ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেটির পরীক্ষা হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, অভিষেক ও তাঁর আরও এক বন্ধুর কাছে থাকা সমস্ত বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (মোবাইল ফোন ইত্যাদি) অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করতে হবে যাতে অভিযোগকারিণীর আপত্তিকর কোনও ছবি, ভিডিও ইত্যাদি আর কোথাও শেয়ার করা না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। ১১ অগাস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ। সেদিন মগরা থানাকে জানাতে হবে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে।
আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অভিষেকের বিরুদ্ধে যে সমস্ত ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, তাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ প্রত্যেকটিই গুরুতর অভিযোগ। অভিষেকের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল এবিপি লাইভ বাংলা। তাঁর ফোন স্যুইচড অফ পাওয়া গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ কলে ফোন বেজে গেলেও ধরেননি।
তবে গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত কলকাতা ময়দান। অনেকে অবাক হচ্ছেন ১৪ জুলাই শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের হয়ে কোনও আইনজীবী সওয়াল না করায়। বলাবলি হচ্ছে, অভিষেক হয়তো ভাবতেও পারেননি জল এত দূর গড়াবে। হয়তো সেই কারণেই আইনজীবীর ব্যবস্থা করেননি। অভিষেকের উত্থানের নেপথ্যে অবদান রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ককে প্রায়শই দেখা যায় অভিষেকের ব্যাটিংয়ের ক্লাস নিচ্ছেন। দিল্লি ক্যাপিটালস দলে ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট হিসাবে অভিষেককে কোচিংও করিয়েছেন সৌরভ। তবে বাঁহাতি ব্যাটার-উইকেটকিপারের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণিত হলে বড়সড় সমস্যায় পড়তে পারেন চন্দননগরের ক্রিকেটার। সংশয় তৈরি হতে পারে তাঁর কেরিয়ার নিয়েও।