কথায় আছে, বন্ধু বেছে নেওয়া যায়। কিন্তু, প্রতিবেশী বাছা যায় না। ভারতের সমস্যাও কিছুটা এমনই। একদিকে, পাকিস্তান। একদিকে চিন। অন্যদিকে বাংলাদেশ। ভারতের সব সীমান্তেই সমস্যার কাঁটাতার। তাই, স্বাধীনতার পর থেকে বারবারই সীমান্ত নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে দিল্লিকে। উত্তাপ বেড়েছে। সংঘাত হয়েছে। দেশের এক এক জন প্রধানমন্ত্রী এক একটি উপায়ে এই সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্টাইল…একেবারে স্ট্রেটকাট। মারতে এলে, পালটা মার !
সার্জিকাল স্ট্রাইক, বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক, অপারেশন সিঁদুর- গত কয়েক বছরে শত্রুদের শিড়দাঁড়ায় কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে পেরেছে এই নয়া ভারত। প্রতিরক্ষার পিচে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে কয়েকশো যোজন পিছনে ফেলে দিয়েছেন তাঁর উত্তরসুরি নরেন্দ্র মোদি।
নেহরুর জমানায় একমাত্র বড় লড়াই ছিল চিনের সঙ্গে। ১৯৬২ সালে। সেই লড়াইয়ে কার্যত গোহারা হেরেছিলেন তিনি।
১৯৫৯ সালে তিব্বতি ধর্মগুরু দলাই লামাকে আশ্রয় দেয় ভারত। তারপরই দিল্লির সঙ্গে বেজিং-এর সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।
সীমান্তে সংঘাত। নেহরুর হার:-
১৯৭১ সালের যুদ্ধের আগে দেশের তৎকালীন ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ’ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে বলেছিলেন, ‘আপনার বাবা যদি সেনাপ্রধানের পরামর্শ শুনতেন, তাহলে চিনের কাছে আমাদের এ ভাবে হারতে হতো না।’ অনেকে বলেন, বাষট্টির সেই হারের মাসুল আজও গুণতে হচ্ছে ভারতকে। উলটো দিকে নরেন্দ্র মোদি। তাঁর ভারত বিধ্বংসী।
জম্মু-কাশ্মীরের উরিতে সেনা ছাউনিতে ঢুকে হামলা চালায় পাকিস্তানি জঙ্গিরা। পালটা ভারতীয় সেনার সার্জিকাল স্ট্রাইক। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দেয় ভারতের বাহিনী।
২০১৯
পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর কনভয়ে হামলা চালায় পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ।
পালটা ভারতীয় বায়ুসেনার বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গিদের ঘাঁটি উড়িয়ে দেয় বায়ুসেনা।
২০২৫
পহেলগাঁওয়ে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলা।
ধর্ম বেছে বেছে নারকীয় হত্যা।
ভারতবাসীর চোখের জল শুকিয়ে যাওযার আগেই বদলা।
অপারেশন সিঁদুর।
পাকিস্তানের মাটিতে জইশ এবং লস্করের সদর দফতর ধ্বংস করে দেয় ভারত।
ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র টার্গেট করে পাকিস্তানের পরমাণু ঘাঁটি কিরানা পাহাড়কেও।
ভারতের পরাক্রম কাঁপুনি ধরিয়ে দেয় পাকিস্তানের শিরদাঁড়ায়। সীমান্তে যখনই কোনও সঙ্কট এসেছে, সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মোদির ভারত। দেশের সুরক্ষায় ‘নো কমপ্রোমাইজ’।