রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কার্নি বলেন, দুই দেশ তাদের বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে “ভালো অগ্রগতি” করছে। তিনি ভারতকে কানাডার জন্য “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেন। কার্নি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হচ্ছে। বহু, বহু স্তরে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক।”
তিনি জানান, দুই পক্ষ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “ওঁকে (প্রধানমন্ত্রী মোদিকে) আতিথেয়তা জানানোর জন্য আমি খুবই আগ্রহী।”
বাণিজ্য আলোচনা গতি পাচ্ছে:
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একদিন আগে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ঘোষণা করেছিলেন যে, কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (CEPA) নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে।
গোয়েল বলেন, দুই দেশ আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সর্বশেষ দফার আলোচনা শেষ হয়েছে।
সোমবার গোয়েল বলেন, “আগামী ৯০ দিন কানাডা-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে চলেছে।”
তিনি জানান, আলোচনার পঞ্চম দফায় অংশ নিতে ভারতীয় আলোচনাকারীরা কানাডা সফর করবেন। এই দফার আলোচনা ৫ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। দুই পক্ষই বছর শেষের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধুও গত সপ্তাহে গোয়েলের সঙ্গে আলোচনার জন্য মুম্বই সফর করেন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ ও আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন থেকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে:
২০২৩ সালে ভ্যাঙ্কুভারের কাছে হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের পর ভারত ও কানাডার মধ্যে যে সম্পর্কের তীব্র অবনতি হয়েছিল, তা মেরামতের চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। খালিস্তান আন্দোলনকে সমর্থনকারী বিশিষ্ট শিখ কর্মী নিজ্জর ছিলেন কানাডার নাগরিক। তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্টরা জড়িত থাকতে পারেন। তবে ভারত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এই বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বহিষ্কার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে।
ট্রুডোর উত্তরসূরি কার্নি এরপর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তিনি যুক্তি দেন, কানাডা যখন তার বাণিজ্যিক সম্পর্কের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি আমেরিকার উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে, তখন ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্চ মাসে কার্নি ভারত সফর করেন। সেই সময় তিনি ভারতকে “বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি এবং গ্লোবাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তির অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র” হিসেবে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি তিনি দুই দেশের মধ্যে একটি “কৌশলগত অংশীদারিত্ব”-এর আহ্বান জানান।
২০২৫ সালে ভারত ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭০ বিলিয়ন ডলারে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উভয় পক্ষ।
কানাডায় ভারতের প্রধান রফতানির মধ্যে রয়েছে ওষুধ, ইস্পাত, সামুদ্রিক খাদ্য, পোশাক, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক পণ্য। অন্যদিকে কানাডা থেকে ভারতের প্রধান আমদানির মধ্যে রয়েছে ডাল, কয়লা, সার, কাগজ এবং অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম।