সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে ‘কালীঘাটপন্থী তৃণমূল’। ‘শুধুমাত্র দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য ব্যবহার করা যাবে এই অ্যাকাউন্টগুলি’, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার হিসাবে নিয়োগ করল আদালত। বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের নজরদারিতে চলবে এই অ্যাকাউন্টগুলি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে,’২ জন স্বীকৃত এবং অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি স্পেশাল অফিসারের কাছে চেক জমা দেবেন’, স্পেশাল অফিসার চেক দেখে স্বাক্ষর করলে তারপর সেই চেক ব্যাঙ্কে জমা করা যাবে। অন্য কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। আইনি খরচও এই অ্যাকাউন্ট থেকে করা যাবে। তদন্ত চলবে, সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট পরবর্তী শুনানির দিন পেশ করবে পুলিশ’, নির্দেশ আদালতের। এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে, ২১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি, জানাল আদালত।
প্রথম শর্তে বলা হয়েছে, এই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ব্যবহার করার জন্য, কলকাতা হাইকোর্ট একজন স্পেশাল অফিসার নিযুক্ত করেছেন। এবং স্পেশাল অফিসার হলেন, কলকাতা হাইকোর্টের অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি, সুব্রত তালুকদার। বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের পর্যবেক্ষণে এবং নজরদারিতে এই যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে, কালীঘাট তৃণমূলের যারা নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁরা ব্যবহার করতে পারবেন। এবং শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র দৈনন্দিন যে কার্যকলাপ রয়েছে এবং যে আইনি খরচা রয়েছে, সেই খরচাটাই এই তিনটে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে করা যাবে। এবং যারা অনুমোদিত এবং স্বীকৃত স্বাক্ষরকারী আছেন, সেই ধরণের দুইজন ব্যাক্তি, তাঁরা চেকে সই করবেন। তারপর সেই চেক, মাননীয় অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের কাছে পাঠাতে হবে। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার তিনি সেই চেকগুলি ভেরিফাই করে সই করলে, তারপর সেই চেক ব্যাঙ্কে জমা হবে। এবং সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তারপর ট্রান্সফার হবে। তার আগে পর্যন্ত কোনও ধরণের ট্রান্সফার হবে না। স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনও ধরণের বড় বা ছোট, আর্থিক লেনদেন, যেগুলি দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন নয়, সেইগুলি এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে করা চলবে না। এই নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের তরফে দেওয়া হয়েছে। এবং এই মামলার যে ইনভেস্টিগেশন চলছে, সেই ইনভেস্টিগেশন তার মতো করেই চলবে। তদন্তকারী আধিকারিকরা যে সহযোগিতার কথা বলবেন, সেই সমস্ত রকমভাবে সহযোগিতা করতে হবে। এই শর্ত কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে। আপাতত ৩০ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশ বহাল থাকবে।
এর পাশাপাশি বলা হয়েছে, তৃণমূলের জয়ী যে এমএলএ রয়েছেন, সেই এমএলএ-দের মধ্যে একটা আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছে। ফলে তৃণমূলে যে প্রতীক, অ্যাকাউন্ট নিয়ে, এই মুহূর্তে নির্বাচনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছেও গোটা বিষয়টা বিচারাধিন আছে। ফলে যারা ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের যারা বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদেরকে এই অধিকার দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টকে, অবগত করতে পারবেন।
TMC News : শুধুই ত্রিপল নয়! প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের গোডাউন খুলে এ কী মিলল?