বিশ্বজিৎ দাস, রাজা চট্টোপাধ্যায় ও মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: সরকার বদল হতেই, রাজ্যের একাধিক তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে কাজ থমকে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। কোথায় পঞ্চায়েত দফতরে আসছেন না প্রধান আর উপপ্রধান। আবার কোথাও অসুস্থ বলে দফতরে গরহাজির পঞ্চায়েত প্রধান। উত্তরবঙ্গের একটি পঞ্চায়েতে আবার বিক্ষোভের ভয়ে সটান ইস্তফা দিয়ে বসলেন তৃণমূলের প্রধান। ফলে একের পর এক পঞ্চায়েতে আটকে রয়েছে নাগরিক পরিষেবা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ।এই আবহে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের নতুন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রায় ২ হাজার প্রধান নিষ্ক্রিয় বা পালিয়ে গেছেন বা অফিসে আসছেন না। ফলে যেমন সরকারি কাজের, প্রজেক্টের অসুবিধা হচ্ছে। সেরকম সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সার্টিফিকেট যা পান, সেটাও পাচ্ছেন না। পেমেন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দরকার হলে পুলিশ পাঠাব বাড়িতে তুলে নিয়ে আসতে। আর নাহলে সাধারণ মানুষকে দিয়ে বাড়ি ঘেরাও করব, ডিমের জায়গায় ইট মারা হবে। ভালোয় ভালোয় চলে আসুন।’
জলপাইগুড়ির অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েত।অভিযোগ, বিক্ষোভের ভয়ে দিনের পর দিন তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েতে আসছিলেন না প্রধান।এবার তাঁর বাড়ির সামনেই আছড়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ।জলপাইগুড়ি অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বলেন, যখনই ওনার কাছে যেতে হবে, চোখের জল ফেলতে হবে। দাদা পরে কথা বলবেন। পরে আসবে। কেন এটা হবে? ওনার অনেক দোষ আছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে পঞ্চায়েতে নিজের পদ থেকে শেষমেশ ইস্তফা দেন প্রধান। জলপাইগুড়ির অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূল নেতা ও প্রধান রাজেশ মণ্ডল বলেন, আমি ঠিক সিকিওর ফিল করছি না, সেই জন্যই যাইনি। হিসাব নিকাশ যেটা GP-র (গ্রাম পঞ্চায়েত) সেটা তো GP (গ্রাম পঞ্চায়েত) থেকে হবে। তখন অডিট ফেস করতে হবে, সেটা ফেস করে নেব। পরিস্থিতি কাজ করার মতো নেই।
প্রায় একই ছবি পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের নবগ্রাম পঞ্চায়েতে।অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূল সরকার বিদায় নিতেই, এই তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত থেকে পাট গুটিয়েছেন পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান। দিয়েছেন ইস্তফা।পশ্চিম বর্ধমান নবগ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শেখ জুবের বলেন, প্রত্যেকদিন পঞ্চায়েতে যাচ্ছি, পঞ্চায়েত থেকে ঘুরে আসছি। ১২৫ দিনের কাজ চালু হয়েছে, ওটার কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে না। কোচবিহারের তৃণমূল পরিচালিত গুড়িয়াহাটি (১) পঞ্চায়েতে আবার বিধানসভা ভোটের রেজাল্ট আউটের পর থেকেই পঞ্চায়েত অফিসে পা রাখছেন না এলাকার তৃণমূল নেত্রী ও পঞ্চায়েত প্রধান।
এবিপি আনন্দ: ৪ তারিখের পর থেকে আপনি যাচ্ছেন না অঞ্চল অফিসে?
গুড়িয়াহাটি (১) পঞ্চায়েত তৃণমূল নেত্রী ও প্রধান রতি বর্মন : শরীর অসুস্থতার কারণে যাচ্ছি না। জনসাধারণের পরিষেবা বাড়ি থেকে দিচ্ছি। শরীর ভাল হলে অফিসে যাব।
পঞ্চায়েত মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বলেন, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, বেতন নিচ্ছে, তাঁর দায়িত্ব পরিষেবা দেওয়া। হয় আপনি পদত্য়াগ করে দিন। বেতন নেন, টাকা লুঠ করেছেন, পালিয়ে গেলে হবে নাকি?’ লোকসভা থেকে রাজ্যসভা, বিধানসভা থেকে পুরসভা, সর্বস্তরেই এখন ভেঙেচুরে খান খান হয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। এবার কি তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত গুলোতেও দেখা যাবে একই ছবি?
TMC News: তৃণমূল কার? কাল কমিশনে দু’পক্ষের জবাব পেশ | কার দখলে তৃণমূলের প্রতীক ও তহবিল?