দ্বারভাঙা : পটনার উপকণ্ঠে একটি আশ্রমে ‘আশ্রয় নিলেন’ জন সূরয পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। এরপর থেকে সেখান থেকেই তিনি রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল প্রতিষ্ঠা না পাওয়া পর্যন্ত সেখান থেকেই তিনি রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিহারের দ্বারভাঙায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভোট স্ট্র্যাটেজিস্ট থেকে রাজনীতিকে পরিণত হওয়া প্রশান্ত জানান, পটনার বাসস্থান থেকে তিনি মঙ্গলবার রাতেই আশ্রমে স্থানান্তরিত হয়ে গেছেন। আইআইটি-পটনার কাছেই রয়েছে বিহার নবনির্মাণ আশ্রম। সেখানেই অস্থায়ী ঠিকানা তাঁর। তবে, সেটাও বেশ সময়সাপেক্ষ। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর পার্টি রাজ্যে ছাপ না ফেলা পর্যন্ত সেখানেই তিনি থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। যিনি ২০২৪ সালে রাজনৈতিক কনসালেটন্সি ছেড়ে জন সূরয পার্টি গড়েছেন। এতদিন পর্যন্ত দলের জাতীয় সভাপতি ও প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ উদয় সিং-এর পরিবারের মালিকানাধীন পটনা বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত ‘শেখপুরা হাউস’ নামক একটি বিশাল বাংলো থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
সিং একটি নামী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তাঁর দাদা, এন কে সিং, রাজ্যসভা একজন প্রাক্তন সাংসদ এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। অন্যদিকে তাঁদের প্রয়াত মা, মাধুরী সিং, ছিলেন একজন প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী এবং পূর্ণিয়া থেকে একাধিকবারের সাংসদ।
জেডিইউ-এর প্রাক্তন সহ-সভাপতি কিশোর। সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের উপর তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। নীতীশ রাজ্যসভায় প্রবেশের আগে পদত্যাগ করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশান্ত বিহারের ভোটারদের জাতি, ধর্ম বা আর্থিক প্রলোভনের ভিত্তিতে ভোট না দিয়ে নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার সময় বিহারের জনগণকে অবশ্যই তাঁদের নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নীতীশ কুমার বা লালু প্রসাদের মতো নেতাদের মাধ্যমে তাঁদের প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়, কিংবা ১০,০০০ টাকার বিনিময়ে নিজেদের ভোট বিক্রি করাও উচিত নয়।
ভাল ফলের কথা বলেছিলেন। কিন্তু, বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এ খাতাই খুলতে পারেনি প্রশান্ত কিশোরের দল জন সূরয। ভোট ময়দানে মুখ থুবড়ে পড়ার পর তিনি মন্তব্য করেন, দল সৎভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া দেন তিনি এবং এর দায় তিনি নিজেই নেন। হাই ভোল্টেজ এই নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়াই করেছিল জন সূরয। কিন্তু, একটি আসনেও জিততে পারেনি। মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েই থামতে হয় তাদের।