নয়াদিল্লি: চার ইঞ্চির ছোট একটি মূর্তি। একনজরে আহামরি কিছু মনে না হলেও, ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। সিন্ধু সভ্যতার অস্তিত্বের প্রমাণ সেটি। কিন্তু সেই মূর্তি নিয়েই এবার বিতর্ক তুঙ্গে। পাঠ্যবইয়ে মূর্তিকে কাপড় পরানো ছবি ছাপার অভিযোগ উঠছে। সেই নিয়ে রোষানলে NCERT. সমালোচনার মুখে পড়ে পিছু হটার ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। (Mohenjo-daro ‘Dancing Girl’ Image Row)
সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম সুপরিচিত দিনর্শন মহেঞ্জোদারোর ‘ডান্সিং গার্ল’ মধুরিমা। চার ইঞ্চির ওই ব্রোঞ্জ মূর্তির বয়স প্রায় ৪৫০০ বছর। ১৯২৬ সালে ব্রিটেনের আর্নেন্ট ম্যাকে সেটিকে আবিষ্কার করেন। নৃত্যরত অবস্থায় একটি অল্পবয়সি মেয়ের চেহারা ফুটিয়ে তুলে ধরা হয়েছে মূর্তিতে। চুল খোঁপা করা রয়েছে, হাতে রয়েছে চুড়ি-বালা, ব্রেসলেট, গলায় নেকলেশ। শরীরের ভঙ্গিতে যেমন আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ছে, তেমনই শিল্পীর শৈলী, রুচিশীল মানসিকতাও ধরা পড়েছে। হরপ্পা সভ্যতার অন্যতম প্রতীক ওই মূর্তি। দিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে রাখা আছে। সেই থেকে ইতিহাস সংক্রান্ত গবেষণায়, পাঠ্যবইয়ে স্থায়ী ভাবে ওই মূর্তি জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি NCERT-র পাঠ্য়বইয়ে মূর্তিটির অন্য রূপ চোখে পড়ে। (NCERT Book Row)
হাজার হাজার বছর আগে তৈরি মূর্তিটির ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত। সেভাবেই পৃথিবীর সর্বত্র পরিচিতি মূর্তিটির। কিন্তু সম্প্রতি NCERT-র নবম শ্রেণির চারুকলা শিক্ষার বইয়ে ‘History of Arts’ অধ্যায়ে মূর্তির যে ছবি ছাপা হয়েছে, তা মূর্তিটির পরিমার্জিত রূপ। ছবিতে মূর্তির কাঁধের নীচের অংশ থেকে শরীরের মধ্যাংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে কালো ছায়ায়, যাতে মূর্তিতে ফুটিয়ে তোলা নারী শরীরের গঠন এবং খুঁটিনাটি বোঝা যাচ্ছে না। বরং দেখে মনে হচ্ছে, মূর্তিটিকে কাপড় পরানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা, ভেঙে পড়ল আমেরিকার B-52 বোমারু, ধ্বংসাবশেষ বলতে কিচ্ছুটি নেই, পড়ে শুধু ছাই
বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঐতিহাসিক মূর্তিকে কাপড়ে ঢাকার প্রয়োজন অনুভূত হল কেন, উঠছে প্রশ্ন। সূত্রের খবর, পাঠ্যবইয়ে মূর্তির ছবি ছাপা নিয়ে এর আগে যে বৈঠক হয়, তাতে NCERT-র কয়েক জন ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত অবস্থায় মূর্তির ছবি ছাপায় আপত্তি জানান। কিন্তু সরকারের নিজের বিশেষজ্ঞই মূর্তিটিকে ঢাকার বিপক্ষে মত দেন। তাঁর মতামতই গৃহীত হয় শেষ পর্যন্ত। তার পরও কেন মূর্তিটির ঊর্ধ্বাঙ্গ ঢাকা হল, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিগত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে NCERT-র পাঠ্যবইয়ে মধুরিমার ছবি ছাপা হয়ে আসছে। এর আগে, NDA সরকারে মুরলি মনোহর জোশী যখন মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীহিসেবে শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়ও আসল মূর্তির ছবিই ছাপা হয় পাঠ্যবইয়ে। তাই সদ্য চালু করা চারুকলা শিক্ষার বইয়ে কেন মূর্তিটিকে ঢাকার প্রয়োজন পড়ল, উঠছে প্রশ্ন।
সমালোচনার মুখে পড়ে NCERT-র ডিরেক্টর দীনেশ সাকলানি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এ মুখ খুলেছেন। জানিয়েছেন, ছবিটি বদলে দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, “বিষয়টি সামনেে আসার পরই খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আসল মূর্তির ছবি দিয়ে বদলে দেওয়া হবে। অবিলম্বে ডিজিটাল সংস্করণে পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে, পরবর্তীতে ছাপাও হবে।”
তবে মধুরিমার মূর্তি বিকৃতির অভিযোগ এই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম এক্সপো-তে ‘mascot’ নামের একটি মূর্তি উন্মোচিত করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মধুরিমার আদলে তৈরি বড় আকারের ওই মূর্তিটির উপর গোলাপি আলোয় রাঙানো হয়েছিল। পরানো হয়েছিল পোশাক। সেই নিয়েও বিতর্ক বাধে।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI
Swapan Samaddar : ধৃত স্বপন সমাদ্দার, আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান