এখন প্রশ্ন, যদি পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ না হয়, আধার কার্ড প্রমাণ না হয় (এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিষয়টি আগেই স্পষ্ট করা হয়েছিল) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সও যদি না হয়— তাহলে প্রশ্ন ওঠে, ঠিক কোন নথি ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর কোনও একক পরিচয়পত্রে নয়; বরং ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের (Citizenship Act, 1955) অধীনে প্রদত্ত নির্দিষ্ট আইনসম্মত সনদ এবং বংশগত নথিপত্রের সমন্বয়ের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে।
বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, মাত্র কয়েকটি নথিকেই ভারতীয় নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট (Certificate of Naturalisation) অথবা রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (Certificate of Registration), যা ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৫ ও ৬ ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) জারি করে। বিদেশি নাগরিক বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত যাঁরা নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাঁদের এই সনদ দেওয়া হয়।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিকের জন্য জন্ম সনদ (Birth Certificate) মৌলিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হলেও এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি শর্ত রয়েছে। কারণ, সময়ের সঙ্গে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইন পরিবর্তিত হয়েছে, ফলে বার্থ সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্মসালের ওপর নির্ভর করে।
২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে ১ জুলাই ১৯৮৭-এর মধ্যে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, বার্থ সার্টিফিকেটই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ সে সময় ভারতে জন্মগ্রহণ করলেই নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলত, পিতা-মাতার নাগরিকত্ব নির্বিশেষে।
১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০০৪-এর মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে, বার্থ সার্টিফিকেটের পাশাপাশি প্রমাণ করতে হবে যে জন্মের সময় অন্তত একজন অভিভাবক ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।
৩ ডিসেম্বর ২০০৪-এর পর জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে, বার্থ সার্টিফিকেটের সঙ্গে এ-ও দেখাতে হবে যে উভয় অভিভাবকই ভারতীয় নাগরিক, অথবা একজন ভারতীয় নাগরিক এবং অন্যজন অবৈধ অভিবাসী নন।
অনেক নাগরিকের বিভ্রান্তির কারণ হলো বিভিন্ন সরকারি নথির ভিন্ন ভিন্ন আইনি মর্যাদা। ভারতের ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি (UIDAI) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আধার কার্ড শুধুমাত্র পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ; এটি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিচয়পত্র (Voter ID) দেশের অভ্যন্তরে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে, কারণ জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (Representation of the People Act) অধীনে কেবল যাচাইকৃত ভারতীয় নাগরিকরাই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
তবে জটিল আইনি বিরোধ বা ট্রাইব্যুনালে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে আদালত প্রায়ই বহু পুরনো জমির দলিল, পারিবারিক উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নথি (legacy data) এবং স্থানীয় সরকারি রেজিস্টারে সংরক্ষিত প্রত্যয়িত তথ্যের ওপর নির্ভর করে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে।
অতএব, কোনও ব্যক্তির কাছে যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা বিশেষ নাগরিকত্ব সনদ না থাকে, তাহলে কঠোর আইনি পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজন হতে পারে একাধিক ঐতিহাসিক ও সরকারি নথির ধারাবাহিক উপস্থাপন, যা সংশ্লিষ্ট সময়ের নাগরিকত্ব আইনের শর্ত পূরণ করে।