Last Updated:
পুণেতে ব্যবসায়ীপুত্র কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিশকে দিয়েছেন লোহগড় দুর্গের নিরাপত্তারক্ষী ধীরজ যাদব। ১৮ জুন কেতনকে তাঁর বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল এবং সিয়ার প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধরী মিলে পাহাড়ের খাদে ধাক্কা মেরে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
পুণে: কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় পুণে পুলিশ অভিযুক্ত চেতনের বন্ধু নীরজকে আটক করেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে তার সম্ভাব্য জড়িত থাকার বিষয়টি এখন তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে, সিয়া ও চেতন একটি ক্যাফেতে একাধিক বৈঠকে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ। এছাড়া, লোহাগড় পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের সময় কেতনকে হত্যা করার আগে তারা একাধিকবার খুনের চেষ্টা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল যে, সিয়া গয়ালের পরিবার তাকে বিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল, যদিও এ নিয়ে তার নিজের আপত্তি ছিল। সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI)-এর উদ্ধৃত পুলিশ সূত্রের মতে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল ও পরিস্থিতিগত প্রমাণ পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সিয়া নিজের জন্য আরও সময় চেয়েছিলেন এবং মানসিকভাবে বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।
পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে যে, সিয়া চেতন চৌধুরীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন, তবে তাকেও বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না। তদন্তকারীদের সন্দেহ, চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি তিনি কেতনকে হত্যার ষড়যন্ত্রেও জড়িত ছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, গত বছর দীপাবলির একটি অনুষ্ঠানে সিয়া ও চেতন চৌধুরীর প্রথম পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
২৬ বছর বয়সী কেতন গত ১৮ জুন পুণের কাছে লোহাগড় দুর্গে একটি খাদে পড়ে মারা যান। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে মনে করা হয়েছিল, কারণ সিয়া কেতনের পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে ট্রেকিংয়ের সময় তিনি পা পিছলে খাদে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে এখন পুলিশের অভিযোগ, ২০ বছর বয়সী সিয়া এবং ২২ বছর বয়সী চেতন চৌধুরী তাকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দিয়েছিলেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লোহাগড় দুর্গের সিসিটিভি ফুটেজ মামলাটির তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে। ওই ফুটেজে দেখা যায়, একটি হুডি পরা ব্যক্তি কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে কেতন ও সিয়াকে অনুসরণ করছে। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে চেতন চৌধুরী হিসেবে শনাক্ত করে। তদন্তকারীরা আরও উল্লেখ করেন যে, প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও তিনি একটি হুডি পরেছিলেন। সেখানেই জাগে সন্দেহ ৷
Kolkata,West Bengal
