এই সর্বাঙ্গীন ওয়ারেন্টি ‘টোটাল কভার (Total Cover)’-এর আওতায়, সংস্থার দুটি প্রিমিয়াম প্রডাক্ট ক্লাব প্রাইম (Club Prime) এবং আর্কিটেক্ট প্লাই (Architect Ply)-এ কেনার ১০ বছরের মধ্যে যদি কোনও ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সেঞ্চুরিপ্লাই শুধু ফার্নিচারের মূল্যই নয়, সেই আসবাব তৈরির সম্পূর্ণ খরচও গ্রাহককে ফেরত দেবে।
সেঞ্চুরিপ্লাইয়ের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিকিতা বনসল বলেন, “ভারতে এই প্রথম আমাদের শিল্পে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া মোটেও সহজ নয়।” তিনি আরও জানান, কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে বর্তমান সময়ের উৎপাদন ব্যয় অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্লাইউডের দাম, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহণ খরচ-সহ প্রডাক্ট তৈরির সমস্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, সংস্থার প্রচলিত ওয়ারেন্টি ১০ বছর পর থেকে কার্যকর হবে। সংস্থার দাবি, এই নতুন আশ্বাসের ফলে তাদের মুনাফার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না, কারণ ত্রুটিজনিত দাবির হার (claim ratio) অত্যন্ত কম—মোট টার্নওভারের মাত্র ০.০৬ শতাংশ।
আগামী পাঁচ বছরে টার্নওভার দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে সংস্থাটি বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেঞ্চুরিপ্লাইয়ের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কেশব ভাজাঙ্কা (Keshav Bhajanka) বলেন, “বর্তমানে আমাদের সম্পদ থেকে মোট ৮,০০০ কোটি টাকা আয় করার সক্ষমতা রয়েছে। ১২,০০০ কোটি টাকা টার্নওভার অর্জন করতে গেলে অতিরিক্ত ৪,০০০ কোটি টাকা আয়ের প্রয়োজন হবে। সেই অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করতে, সম্পদ-টার্নওভার অনুপাত ১:১.৫ ধরে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২,৫০০ কোটি থেকে ২,৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।”
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY26) সংস্থাটির মোট রেভিনিউ ছিল ৫,৪০৭ কোটি টাকা।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে পঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে সংস্থাটি একটি নতুন প্লাইউড কারখানা চালু করবে। এছাড়া ওড়িশা এবং উত্তরপ্রদেশেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে একটি প্লাইউড উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। পাশাপাশি, ওড়িশায় একটি এমডিএফ (MDF) অথবা পার্টিকেল বোর্ড উৎপাদন কারখানায়ও বিনিয়োগ করবে সংস্থা।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের (FY27) প্রথম ত্রৈমাসিকে (Q1) সংস্থার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা (PAT) আগের অর্থবর্ষের একই সময়ের ৫২.৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩.৩ কোটি টাকা হয়েছে। একই সময়ে সংস্থাটি ১,৫৬১ কোটি টাকা আয় করে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক রাজস্ব।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, “রাজস্ব বছরে বছরে (YoY) ৩৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূল ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলিতে শক্তিশালী বৃদ্ধির প্রতিফলন। বৈদেশিক মুদ্রার (ফরেক্স) ক্ষতি বাদ দিলে EBITDA মার্জিন বেড়ে ১৩.০ শতাংশ হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ছিল ১২.৫ শতাংশ।”
সংস্থার মতে, প্লাইউড বিভাগ ত্রৈমাসিকের তুলনায় (QoQ) এবং বছরের তুলনায় (YoY) ধারাবাহিকভাবে বৃ্দ্ধি বজায় রেখেছে, যার পিছনে লাভের মার্জিন বৃদ্ধির বড় ভূমিকা রয়েছে। এই বিভাগে রাজস্ব QoQ ভিত্তিতে ৮.৯ শতাংশ এবং YoY ভিত্তিতে ৩২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, এমডিএফ (MDF) বিভাগে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সংস্থার দুটি কারখানার মধ্যে একটি পরিকল্পিতভাবে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকায় ক্রমিক ভিত্তিতে (QoQ) রেভিনিউতে কিছুটা পতন হয়েছে। তবে বছরের তুলনায় (YoY) এই বিভাগেও শক্তিশালী বৃদ্ধি বজায় রয়েছে।