মুম্বই : কয়েকদিন আগেই মুম্বইয়ের আয়কর বিভাগ বাণিজ্য নগরীর ১২ জায়গায় হানা দিয়েছিল। এর মধ্যে এমন কিছু জায়গা ছিল যার সঙ্গে যোগ ছিল অভিনেত্রী রকুল প্রীত সিং এবং তাঁর শ্বশুর বাসু ভগনানি ও প্যানোরমা স্টুডিওর। এর মাঝেই সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে যে, রকুল প্রীত সিং- এর শ্বশুর বাসু ভগনানি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানা গিয়েছে, লন্ডনে একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলিউডের এই বর্ষীয়ান প্রযোজক। কেন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তার কারণ নিশ্চিতভাবে এখনও জানা যায়নি। সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, ভগনানি পরিবারের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, তারা আপাতত তাদের একা ছেড়ে দিতে বলেছে। অনুমান, অসুস্থ হয়েছেন বাসু ভগনানি। তবে কী ধরনের অসুস্থতা, কেনই বা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাসু ভগনানির ছেলে জ্যাকি ভগনানির সঙ্গে বিয়ে হয়েছে রকুল প্রীত সিংয়ের। বলিউডের বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাকি। তবে ইদানীং প্রযোজনাতেই মন দিয়েছেন তিনি।
১ মাসের সন্তানকে বিক্রি করে কেনা হয়েছে দামি ফোন, সোনার চেন, মা-বাবার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ
বলিউডে ‘ভগনানি’- রা প্রযোজক হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত নাম। একসময় এই সংস্থা একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা প্রযোজনা করেছে। ১৯৯৫ সালে বাসু ভগনানি প্রতিষ্ঠা করেন প্রযোজনা সংস্থা পূজা এন্টারটেনমেন্ট। প্রযোজক হিসেবে বাসু ভগনানির ডেবিউ সিনেমা ছিল গোবিন্দ- র কুলি নম্বর ১। ডেভিড ধাওয়ানের পরিচালনায় এই ছবি রিলিজ হয়েছিল পূজা এন্টারটেনমেন্টের প্রতিষ্ঠার সালেই, অর্থাৎ ১৯৯৫ সালে। এরপর বলিউডের একাধিক জনপ্রিয় ছবি, ‘হিরো নম্বর ১’, ‘বিবি নম্বর ১’, ‘প্যার কিয়া তো ডরনা ক্যায়’, ‘রহেনা হ্যায় তেরে দিল মে’ – এইসব ছবি প্রযোজনা করেছে বাসু ভগনানির প্রযোজনা সংস্থা পূজা এন্টারটেনমেন্ট। নতুন সিনেমার মধ্যে ‘সরবজিৎ’, ‘বেল বটম ২০২৪’, ‘বড়ে মিঞা ছোটে মিঞা ২০২৪’ – এইসব ছবিও প্রযোজনা করেছে পূজা এন্টারটেনমেন্ট।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের ১২টি জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে আয়কর দফতর। যেসব জায়গায় অভিযান চলেছে, সেই তালিকায় বেশ কিছু এমন জায়গা ছিল, যার সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে রকুল প্রীত সিং এবং তাঁর শ্বশুরের। আয়কর বিভাগের তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই ১২টি সংস্থার মাধ্যমে তহবিল তছরুপ করা হয়েছে। সিনেমা প্রযোজনা করার আড়ালে তহবিল বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অনুমান করছেন আয়কর বিভাগের আধিকারিকরা। আর সেই কারণেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। সে ১২টি জায়গায় মুম্বইয়ের আয়কর বিভাগ হানা দিয়েছে, সেখানে গিয়ে আধিকারিকরা তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নথি খতিয়ে দেখেছেন। ভালভাবে খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে ওইসব সংস্থার আর্থিক রেকর্ড। কোথায় কোথায় কত টাকার লেনদেন হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখেছেন আয়কর বিভাগের আধিকারিকরা।