রাজ্যে এবার সেমিকন্ডাক্টর হাব, বিনিয়োগে আগ্রহী মিৎসুবিশি:
মিৎসুবিশি। বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় নাম। আগামী দিনে ইভির দুনিয়ায় বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসতে চাইছে ভারত। ইভির প্রাণভোমরা সেমিকন্ডাক্টর। সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য প্রয়োজন অতি-বিশুদ্ধ রাসায়নিক এই ফিল্ডে অন্যতম সেরা মিৎসুবিশি। ভারতে সেমিকন্ডাক্টর তৈরির প্রডাকশন ইউনিট খুলতে চায় মিৎসুবিশি। আর এই মেগা প্রজেক্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে এবার উঠে এল পশ্চিমবঙ্গের নাম।
বাংলায় ভরসা মিৎসুবিশির:
অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন, সেমিকন্ডাক্টর প্রডাকশন ইউনিট তৈরি হলে রাজ্যের অর্থনৈতিক চালচিত্রই যাবে বদলে। যেমন বদলে গিয়েছে অসমে-ওড়িশায়। অসমে তো এক রকম সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লবই ঘটে গিয়েছে।
অসমে সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লব:
অসমের মরিগাঁও জেলার জাগিরোডে ২৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং প্ল্যান্ট তৈরি করছে টাটা ইলেকট্রনিক্স। হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরকারের দাবি, এ বছরের শেষের দিকেই পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে জাগিরোডের এই প্লান্ট থেকে দিনে ৪ কোটি ৮০ লক্ষ চিপ তৈরি হবে ৷ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে ৷
গুয়াহাটি থেকে মাত্র ৫৭ কিলোমিটার দূরে এখানে এক সময় ছিল নগাঁও পেপার মিল। এখন সেখানে টাটা ইলেক্ট্রনিক্সের সেমিকন্ডাক্টর হাব। কিছুদিন আগে এই প্লান্ট ঘুরে দেখেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এই প্রকল্পের হাত ধরে স্বপ্ন দেখছে অসম। স্বপ্ন দেখছে যুব সমাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশিক্ষণহীন শ্রমিকের চাহিদা বিপুল পরিমাণে বাড়বে। পাশাপাশি উত্তর পূর্ব ভারতের উচ্চশিক্ষিত, উচ্চমেধার দক্ষ যুবকদেরও চাকরির জন্য আর অন্য কোথায় যেতে হবে না।
সেমিকন্ডাক্টরে দিশা দেখাচ্ছে ওড়িশা:
ভুবনেশ্বরের ইনফো ভ্যালিতে দেশের প্রথম ইন্টিগ্রেটেড সিলিকন কার্বাইড ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট ও থ্রি ডি গ্লাস সাবস্ট্রেট প্যাকেজিং ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে।
২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে এআই এবং উন্নত প্রযুক্তির চিপ তৈরি হবে।
প্রশিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণহীন মিলিয়ে বিপুল কর্মসংস্থান
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৬ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ
সেমিকন্ডাক্টর হাবের হাত ধরে অর্থনীতিতে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছে ওড়িশা।
বাংলায় ভরসা মিৎসুবিশির:
বিশ্বের প্রথম সারির সংস্থা জাপানের মিৎসুবিশি। সেমিকন্ডাক্টর হাব খুলতে বেছে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু মিৎসুবিশির মতো নামী সংস্থা বাংলাকেই কেন বেছে নিচ্ছে? অর্থনীতিবিদদের মতে, পালাবদলের পর রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিস্থিতি, সরকারের নতুন শিল্প নীতি, জমি নীতি এবং উন্নত পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগই এর প্রধান কারণ ৷
এবার বাংলায় ‘সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লব’:
জাপানের এনটিটি ডেটা ইতিমধ্যেই রাজ্যে ৩,৮০০ কোটি টাকার সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। এবার জাপানেরই মিৎসুবিশি বানাতে চায় সেমিকন্ডাক্টর হাব। নতুন সরকারের শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তি ভরসা দিচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। অসম-ওড়িশার মতোই সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লবের স্বপ্ন এবার বাংলাতেও।