হিন্দোল দে, কলকাতা : শহরের বুকে মর্মান্তিক ঘটনা ! বাঁশদ্রোণীর স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু ! স্কুলের গাফিলতিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা। বাঁশদ্রোণীর মহাঋষি বিদ্যামন্দিরের ঘটনা।
বিস্তারিত ঘটনা…
সকাল ১০টা থেকে এনএসসি বোস রোডে বাঁশদ্রোণীর এই স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা। গত ১৩ তারিখে ওই ছাত্র স্কুলে প্রথম ক্লাস থেকেই অসুস্থ বোধ করে। বিষয়টা সে শিক্ষকদের জানিয়েছিল। তারপরেও তার কথায় কোনও কর্ণপাত করা হয়নি বলে মৃত ছাত্রের পরিবার ও বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ। আরও অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাকে সমস্ত ক্লাস করানোর পর সে যখন অসুস্থ বোধ করছে, সেই অবস্থাতেই স্কুলব্যাগ নিয়ে তাকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে বলা হয়। সেইসময় ওই ছাত্র পড়ে যায়। এর জেরে সে জ্ঞান হারায়। সেই থেকে সে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। গত রবিবার তার মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই অভিযোগ উঠে আসছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে বিষয়টি জানাননি। তাঁরা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন। এই অভিযোগ তুলে আজ অভিভাবকরা পথে নামেন। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান তোলেন অভিভাবকরা।
বিক্ষুব্ধ এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের দাবি একটাই যে, প্রিন্সিপাল আর ম্যানেজমেন্ট এখানে আসুক। এই যে অন্যায়টা ঘটেছে, এই যে স্কুলে এত বছর ধরে এইভাবে বাচ্চাদের ওপর টর্চার করা চলছে…আজ একটা মায়ের কোল খালি হয়ে গেল, কিন্তু সকাল থেকে কর্তৃপক্ষের কেউ এখানে উপস্থিত নেই। কেন এখানে প্রেজেন্ট নেই ? আমাদের একটাই দাবি, ম্যানেজমেন্ট আসুক। সি সি টিভ ফুটেজ আমাদের দেখাক। তাঁরা প্রমাণ করুক। প্রিন্সিপালকে আমরা দেখতে চাই। পুরো স্কুল কর্তৃপক্ষকে চেঞ্জ চাই।”
অপর এক বিক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন, “পুরো সিস্টেমটাকে চেঞ্জ করতে চাই। আমরা এই সিস্টেম মানতে পারছি না। মানব না। আমরা প্রিন্সিপালের পদত্যাগ চাই। একদম স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়ী। স্কুলের গাফিলতিতে বাচ্চাটা আজ মরে গেল। নাহলে, বাচ্চাটা আজ জীবিত থাকত।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে পে লোডারের ধাক্কায় পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বাঁশদ্রোণী। মহালয়ার সকালে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় নবম শ্রেণির এক পড়ুয়ার। প্রতিবাদে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত দফায় দফায় বিক্ষোভ, উত্তেজনা ছড়ায় বাঁশদ্রোণী এলাকায়। পাটুলি থানার ওসিকে নামানো হয় কাদা জলে। উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশ কর্মীদের কলার ধরে হুঁশিয়ারি দেয় উত্তেজিত জনতা।