এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক মহিলা জানতে চেয়েছেন, তাঁর বাবা যে জমি ভাইদের কাছে বিক্রি করেছিলেন, সেই জমিতে তিনি কোনও অংশ দাবি করতে পারবেন কি না।
মহিলা জানান, তাঁদের পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ছিলেন। তাঁর ছোট বোনের দু’বছর আগে ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর বাবা ২০১৫ সালে মারা যান।
মহিলার দাবি, তাঁর বাবা ২০০৫ সালে ভুবনেশ্বরে থাকা নিজের উপার্জিত জমি দুই ছোট ভাইয়ের কাছে তাঁদের কিছু না জানিয়েই বিক্রি করে দেন। পরে ভাইয়েরা সেই জমিতে বাড়ি তৈরি করে বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি এই বিক্রির বিষয়ে জানতে পারেন, এরপরই নিজের আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আর্থিক বিশেষজ্ঞ বলবন্ত জৈনের মতে, এই ক্ষেত্রে মহিলার কোনও আইনি দাবি তৈরি হয় না। তিনি জানান, যে জমির কথা বলা হচ্ছে, সেটি ছিল বাবার স্ব-অর্জিত সম্পত্তি।
হিন্দু আইনের অধীনে কোনও ব্যক্তি তাঁর স্ব-অর্জিত সম্পত্তি জীবদ্দশায় সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিক্রি করতে পারেন, উপহার দিতে পারেন অথবা উইলের মাধ্যমে যাকে খুশি দিয়ে যেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ক্ষেত্রে আইনগত উত্তরাধিকারী— ছেলে হোক বা মেয়ে— স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই সম্পত্তির উপর অধিকার পান না। বাবা তাঁর সম্পত্তি কাকে দেবেন আর কাকে দেবেন না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।
কখন উত্তরাধিকারীদের অধিকার তৈরি হয়?
বলবন্ত জৈন ব্যাখ্যা করেছেন, যদি কোনও ব্যক্তি বৈধ উইল ছাড়া মারা যান, তখন তাঁর অবশিষ্ট সম্পত্তির উপর আইনগত উত্তরাধিকারীদের অধিকার তৈরি হয়।
সেই পরিস্থিতিতে মেয়েরাও সমান অংশ পাওয়ার অধিকারী হন। কিন্তু যে সম্পত্তি ব্যক্তি জীবদ্দশায় বিক্রি করে দিয়েছেন, সেই সম্পত্তির উপর পরে আইনগত উত্তরাধিকারীরা দাবি করতে পারেন না।
এই কারণেই এই ক্ষেত্রে মহিলার পক্ষে আদালতে জমি বিক্রিকে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞের মতে, যদি বাবার অন্য কোনও সম্পত্তি থেকে থাকে এবং তার জন্য কোনও উইল তৈরি না করা হয়ে থাকে, তাহলে ওই মহিলা সেই সম্পত্তিতে নিজের অংশ দাবি করতে পারেন।
তবে এই ধরনের বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভাল বলে মনে করা হচ্ছে।
Disclaimer: এই মতামত সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত। কোনও আর্থিক বা আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনও ক্ষতির জন্য সংবাদমাধ্যম দায়ী থাকবে না।