ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহেই এই নির্দেশ দিলেন মোজতবা। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আরও একবার নতুন করে যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশ দেন খামেনেই। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের যে কোনও হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর সরকারি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টেও এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শুক্রবার ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস দাবি করে, অনুমোদনহীন পথে চলাচল করার অভিযোগে হরমুজ প্রণালীতে চারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন লেগেছে। অন্যদিকে, একটি পৃথক সামুদ্রিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ছেড়ে বেরনোর সময় অজ্ঞাত কোনও বস্তু এসে একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হানে। তবে এই সংক্রান্ত সমস্ত দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বারবার এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়। ইরানের সামরিক এবং পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পাল্টা জবাবে ইজরায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত সামরিক অবস্থানগুলিতে আক্রমণ চালায় ইরান।
প্রাথমিক হামলাতেই নিহত হন ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জুন মাসে একটি চুক্তির মাধ্যমে সাময়িকভাবে আলোচনার পথ খুলেছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। ফলে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের নতুন করে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ফের সংঘাত শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের তরফেও জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে আরও সামরিক পদক্ষেপ করা হতে পারে। পাশাপাশি, কাতার-সহ পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশ ফের আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনেইয়ের সর্বশেষ নির্দেশ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের উপর নতুন করে কোনও হামলা হলে সংঘাত আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে, সেই প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত মিলছে তেহরানের এই বার্তায়।