ইরান এই চুক্তির অংশ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, চুক্তির কোনও শর্তই অন্য দেশগুলিকে এতে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখে না, যদি তারা যৌথ প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক শান্তির লক্ষ্যগুলির সঙ্গে একমত হয়। শুক্রবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আপনি যদি মক্কা চুক্তিটি ভালোভাবে পড়েন, তাহলে দেখবেন, কারও যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। যৌথ প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক শান্তির বিষয়ে যাদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তারা কেন যোগ দেবে না? প্রত্যেককেই স্বাগত জানানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, চুক্তির পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে এর তিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর।
গত ৭ অগাস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরকারী দেশগুলির মধ্যে কোনও একটি দেশের উপর হামলা হলে, সেটিকে সবক’টি দেশের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
ইরান যুদ্ধের আবহে গুরুত্ব বাড়ছে প্রতিরক্ষা চুক্তির:
চলতি ইরান যুদ্ধ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার মধ্যে এই চুক্তির গুরুত্ব বেড়েছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের জন্য তেহরান সফর করার কয়েক দিন পরই চৌধুরীর এই মন্তব্য সামনে এল। ওই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সলমন এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে ‘সতর্ক আশাবাদী’ বলে বর্ণনা করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
মুনিরের বারবার তেহরান সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে চৌধুরী বলেন, “যদি কোনও ইতিবাচক সম্ভাবনা না থাকত, তাহলে ফিল্ড মার্শাল কেন দু’বার সেখানে যেতেন? তাই হ্যাঁ, অবশ্যই।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও এমন কিছু ‘‘শক্তিশালী পক্ষ রয়েছে, যারা এই উদ্যোগে বাধা দিতে চায় এবং বিরোধিতা করছে’’, কারণ তারা মনে করে সংঘাত তাদের স্বার্থ পূরণ করে।
এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে কি না, জানতে চাওয়া হলে চৌধুরী বলেন, তা পরিস্থিতি এবং দু’দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নেওয়া সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
সৌদি আরবের প্রতি এবং মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলির সুরক্ষায় ইসলামাবাদের অঙ্গীকারের কথাও তিনি ফের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা ইয়েমেনের সংঘাতের অংশ নই। এটি ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত।”
এদিকে, বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে ইরানপন্থী হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ইয়েমেনের সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।