দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে আগ্রার একটি পরিবার বিশ্বাস করেছিল যে তারা একজন নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজছে। পুলিশ তাঁর নিখোঁজ হওয়ার তদন্ত চালায়, আত্মীয়-স্বজন উত্তর খুঁজতে অপেক্ষা করেন, কিন্তু কেউই সন্দেহ করেননি যে ঘটনার আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ব্যক্তির নিজের বাড়ির ভিতরেই। পরে ঘটনায় নাটকীয় মোড় আসে, যখন ওই ব্যক্তির স্ত্রী অভিযোগ অনুযায়ী স্বীকার করেন যে তাঁর স্বামী কখনও নিখোঁজ হননি। পুলিশের দাবি, মৃত্যুর পরপরই তাঁর দেহ বাড়ির বাথরুমের মেঝের নীচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে উত্তরপ্রদেশের সিকান্দ্রা এলাকায়। সেখানে পুলিশ নিহত সুরেন্দ্র শর্মা-র স্ত্রী রুবিকে স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন সুরেন্দ্র। তাঁর স্ত্রী রুবি অবশ্য সবাইকে বলে বেড়াতেন, স্বামী বেড়াতে গিয়েছেন। তাড়াতাড়িই ফিরে আসবেন ৷ কিন্তু তার পরে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে যায়। কিন্তু সুরেন্দ্রর আর হদিশ মেলে না। শেষে থানায় নিখোঁজের ডায়রি করেন রুবি। কিন্তু তদন্তে নেমে তাঁর বয়ানে একের পর এক অসঙ্গতি পান তদন্তকারীরা।
বছরের পর বছর চলা নির্যাতনের জেরেই খুনের অভিযোগ:
পুলিশের দাবি, সুরেন্দ্র বেকার ছিলেন এবং মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। তিনি নিয়মিত মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন এবং রুবির উপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ। সংসারের খরচ চালানোর জন্য পরিবারটি মূলত সুরেন্দ্রর মায়ের প্রাপ্ত পেনশনের উপর নির্ভরশীল ছিল বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রুবি অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়ে আসছিলেন। তাঁর দাবি, ২৬ মে স্বামীর আরেক দফা মারধরের পর তিনি তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশের দাবি, অপরাধের প্রমাণ গোপন করার উদ্দেশ্যে রুবি বাড়ির বাথরুমের ভিতরে একটি গর্ত খুঁড়ে সেখানে স্বামীর দেহ পুঁতে রাখেন।
নিখোঁজের অভিযোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে তল্লাশি চালায় পুলিশ:
সুরেন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাঁর ভাই অনিল শর্মা সিকান্দ্রা থানায় গিয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। প্রায় ৪৫ দিন ধরে পুলিশ তাঁর নিখোঁজ হওয়ার তদন্ত চালিয়ে যায়। অথচ তদন্ত চলাকালীন যে বাড়িতে তারা বারবার গিয়েছিল, সেই বাড়ির ভিতরেই নিহতের দেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে তদন্তে নতুন মোড়:
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার পুলিশকর্মীরা পরিবারের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং পরে সেখান থেকে চলে আসেন।
এরপর ওই রাতেই স্ত্রী রুবি তাঁর শাশুড়ির কাছে স্বীকার করেন যে সুরেন্দ্র নিখোঁজ হননি, বরং তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ অনুযায়ী জানান, স্বামীর দেহ বাড়ির ভিতরেই পুঁতে রাখা হয়েছে।