রুমা পাল ও মনামি রায়, কলকাতা : ১৫ বছর পর ফের একটা রাজনৈতিক পালাবদল হল পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু রং পরিবর্তনের থেকেও বড় পরিবর্তন দেখা গেল এ রাজ্যের ভোট সংস্কৃতিতে! সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত একটা ভোট দেখল রাজ্যবাসী। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটে যেই জিতুক-হারুক ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ হল নির্বাচন কমিশন।
শান্তির ভোট। সুশাসনের পক্ষে রায়। ভোটের ফলাফলে পুরোটাই দুধ…কোনও জল নয়। নজিরবিহীন ভোট দেখল পশ্চিমবঙ্গবাসী। সেইসঙ্গে বেনজির ফলাফলও।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় বিজেপি, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে ?
১৯৭২ সালে রাজ্য়ে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সরকার ছিল। কেন্দ্রেও তখন কংগ্রেসের সরকার। সেই অর্থে ডবল ইঞ্জিন সরকার। সেই শেষ। তারপর কেন্দ্রে একদলের সরকার থেকেছে, রাজ্য়ে অন্য় দলের। সেই রেওয়াজের অবসান ঘটল।
রিগিং নেই, ছাপ্পা নেই, বুথ জ্য়াম নেই, মারপিট নেই, রক্তপাত নেই, প্রাণহানি নেই – এমন ভোট শেষ কবে দেখেছে রাজ্য়বাসী, মনে পড়ে না। আর এর পুরো কৃতিত্ব অবশ্য়ই নির্বাচন কমিশনের। ম্য়ান অব দ্য় ম্য়াচ তারাই। আর সেইসঙ্গে সুপার হিরো অবশ্য়ই কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট যে এবার অন্যরকম হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। শুরুতেই কড়া বার্তা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছিলেন, “সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর।” বারবার নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছিল, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর তারা।
একদিকে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা, পক্ষপাত মুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন। আর অন্যদিকে, বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। এই তিনের মিশেলেই আস্থা ফিরে আসে ভোটারদের। যার ফলও মেলে হাতেনাতে। কড়া নিরাপত্তায় শান্তিতে এবং নির্বিঘ্নে ভোট দেন রেকর্ড সংখ্যক মানুষ। অধ্যাপক প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচন কমিশন এবার দেখিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে হিংসামুক্ত ভোট সম্ভব। সামগ্রিকভাবে ডে ওয়ান…যেদিন নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে, তার আগে SIR প্রক্রিয়া, এরপর মানুষের অংশগ্রহণ এবং মানুষ যে ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিতে পেরেছেন, আমি বলব নির্বাচন কমিশন ম্যান অফ দ্য সিরিজ। যদি আমরা গত ৬ মাস দেখি। যে জিতেছে, যে হেরেছে মানুষের ভোটে। এখানে কেউ কোনও অভিযোগ করতে পারবে না।”
কথায় বলে, All’s well that ends well. অর্থাৎ যার শেষ ভাল, তার সব ভাল! তাই হার-জিত যে দলেরই হোক না কেন, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ম্যাচের প্রকৃত সেরা নির্বাচন কমিশন।