নয়াদিল্লি: অযোধ্যার রামমন্দিরের কোটি কোটি টাকা লুঠের অভিযোগ। ১ কোটি বা ২ কোটি নয়, প্রায় ২০০ কোটি টাকা লুঠের অভিযোগ উঠছে। সেই আবহেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের তৈরি করে দেওয়া SIT গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হাতে পেল। সিসিটিভি ফুটেজ বিকৃত করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে তদন্তের পরিধি আরও প্রসারিত হতে পারে। (Ram Mandir Donation Case)
বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে মন্দির চত্বর ঘুরে দেখেন তদন্তকারীরা। নজরদারি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়, রেকর্ড করে রাখা ফুটেজ এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। আর তাতেই সিসিটিভি ফুটেজ বিকৃতির ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে সিসিটিভি নজরদারি, সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা লোকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। (Ram Temple Donation Row)
রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদবকে সাত ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিসিটিভি নজরদারি, গেট-চেকিং এবং মন্দিরের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। SIT এখনও পর্যন্ত যে সব নথি পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, গত ১১ মাসে মন্দির চত্বরের নিরাপত্তা খাতে ১০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। নিরাপত্তা খাতে এত টাকা খরচের পরও মন্দিরের ক্যাশ-বাক্স থেকে টাকা এবং গয়না চুরির অভিযোগ ভাবিয়ে তুলেছে তদন্তকারীদের।
আরও পড়ুন: পাঁচ জন মিলে গণধর্ষণ গৃহবধূকে, যৌনাঙ্গ থেকে বেরোল গুলি, পাথর, কাঠের টুকরো
পাশাপাশি, দানের টাকা গোনার পদ্ধতিও SIT-র নজরে। ব্যাঙ্কের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা গোনার সময় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, বিশেষ করে ট্রাস্টের কর্মীর পরিবর্তে ব্যাঙ্কের কর্মিসংখ্যা বেশি ছিল কি না, দেখা হচ্ছে তাও। ভিজিটর্স বুক কারা দেখতেন, পাস ইস্যু করতেন কারা, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে তদন্তকারীদের তরফে।
সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখনও পর্যন্ত ২০০ জনের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ১২৫ জনকে ইতিমধ্যেই ডাকা হয়েছে, একাধিকবার ডাকা হয়েছে বেশ কয়েক জনকে। কী ভাবে লুঠ হয়েছে, এর নেপথ্যে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও কিছু জনকে ডেকে পাঠানো হতে পারে বলে খবর।
আরও পড়ুন: SUV গাড়ির মধ্যে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হল বিজেপি নেতাকে, বেআইনি বালির খাদানের দখল নিয়ে ঝামেলার জের!
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই একটি ছবি সামনে এসেছে, যাতে দেখা গিয়েছে, মন্দিরের কর্মীরা টাকা গুনছেন। মন্দিরের ভিতর, টেবিলের উপর রাখা আছে টাকা। এখনও পর্যন্ত পাঁচ কর্মীর কাছ থেকে ২ কোটি টাকা উদ্ধার করা গিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে একটি গাড়ি, কিছু আইফোন। দিল্লি থেকে এক সিনিয়র IPS অফিসার পৌঁছেছেন চার দিন আগে। তিনি ‘শ্রীরাম জন্মভূমি ট্রাস্টে’র আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা SIT-র।
রামমন্দিরের টাকা এদিক-ওদিক হওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও চরমে উঠেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবই প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। সেই থেকে একে একে মুখ খুলেছেন অনেকেই। ট্রাস্ট, এমনকি বিজেপি-র অনেকেও তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন। মঙ্গলবার আম আদমি পার্টি যোগী আদিত্যনাথ সরকারের দিকে আঙুল তোলে। ২০০ কোটির বেশি টাকার চুরি আটকাতে তারা ব্যর্থ বলে দাবি করা হয়। সাংসদ সঞ্জয় সিংহ বলেন, “রামমন্দিরের দান-বাক্স থেকে ২০০ কোটি টাকার বেশি দান চুরি গিয়েছে। ৫০ জনের বেশি কর্মী যুক্ত। কুম্ভমেলার সময় প্রতিদিন ১৫-২০ লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছিল। এখনও পর্যন্ত ন’জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁদের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার করা গিয়েছে। তার পরও দায়িত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন ED পাঠাচ্ছেন না, প্রশ্ন তোলেন।
VIDEO | Lucknow, UP: “Hindus across country feel cheated; FIR should be filed against Champat Rai, he has looted in the name of Ram”, says AAP MP Sanjay Singh on Ayodhya Ram temple donation row. pic.twitter.com/G9a3ysuwfv
— Press Trust of India (@PTI_News) June 18, 2026
শেষ পর্যন্ত দোষীদের নাগাল পাওয়া যাবে কি? প্রশ্নের উত্তর আরও ঘোরাল হয়ে উঠছে। কারণ ‘রাম জন্মভূমি আন্দোলনে’র কর্মী সন্তোষ দুবে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন, যাতে সরাসরি ট্রাস্টের সদস্য চম্পত রাই এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, শুধু দানের টাকা-গয়না চুরিই নয়, ‘রাম মন্দির আন্দোলন’ চলাকালীন দানসামগ্রী হিসেবে যে ১২৫০ সোনা, রুপোর ইট, হিরে খচিত অষ্টধাতুর ইট এসেছিল, তাও আর পাওয়া যাচ্ছে না। একটি ইট মরিশাস পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, হিরেখচিত ইট মুম্বইয়ের এক ব্যবসায়ীর কাছে আছে বলে দাবি করেছে সন্তোষ।
অযোধ্যার রামজন্মভূমি থানায় মঙ্গলবার অভিযোগ দায়ের করেছেন সন্তোষ। অভিযোগ করেছেন ‘রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টে’র সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, সদস্য অনিল মিশ্র, মন্দিরের প্রশাসক গোপাল রাও, রাম শঙ্কর ওরফে টিন্নুর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে টিন্নু চম্পতের গাড়িও চালান। FIR দায়ের করে গভীর তদন্তের পাশাপাশি, সকলের পলিগ্রাফ টেস্টেরও দাবি তুলেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি চম্পত। তাঁর সহযোগীদের দাবি, চম্পত অসুস্থ। কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।অনিলও এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের বাইরে। তাঁরও চিকিৎসা চলছে বলে খবর।
অভিযোগকারী সন্তোষ কৈশোর থেকেই ‘রামজন্মভূমি আন্দোলনে’র সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসে অভিযুক্ত হিসেবে মামলায় নাম ছিল তাঁরও। তাঁর দাবি, আন্দোলন চলাকালীন গুলিও খেয়েছিলেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে জেলও খেটেছেন। বর্তমানে ‘ধর্মসেনা’ নামের একটি হিন্দু সংগঠন চালান। রামমন্দিরের টাকা, গয়না চুরির যে অভিযোগ আসছে, তার জন্য চারজনের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা অশোক সিঙ্ঘলও। সন্তোষের বক্তব্য, “রামের নামে লুঠ চলছে, যত পারো লুঠ করে নাও।” কড়া শাস্তির দাবি তুলছেন তিনি।
Siciliana Restaurant: কলকাতায় বসে ইতালির স্বাদ! দ্বিতীয় বছরে পা দিল ভবানীপুরের ইতালিয়ান রেস্তোরাঁ সিসিলিয়ানা