মুম্বই : বলিউড অভিনেতা সলমন খানের বাড়ির বাইরে মোতায়েন কনস্টেবলের মৃত্যু। মুম্বই পুলিশের কর্মী ওই কনস্টেবল গণেশ রায়াতের বয়স হয়েছিল ৪১ বছর। অভিনেতার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গার্ডের ডিউটি করাকালীনই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সন্ধেয় হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। খবর অনুযায়ী, ওই কনস্টেবল মুম্বই পুলিশের LA-4 ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। সন্ধে ৬টার দিকে তিনি অন্য পুলিশ কর্মীদের কাছে অসুস্থতার কথা জানান। এরপরই তাঁকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভাবা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, কর্তব্যরত অবস্থায় রায়াতের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সলমন খানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। ২০২৪ সালে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের পর সলমনের নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘ওয়াই-প্লাস’ (Y-plus) স্তরে উন্নীত করা হয়েছিল। খবর অনুযায়ী, সলমনের এই ‘ওয়াই-প্লাস’ নিরাপত্তার আওতায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক এবং তাঁর গাড়ির পাশাপাশি চলা একটি পুলিশ এসকর্ট বা প্রহরা-গাড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নব্বইয়ের দশকের সেই ‘কৃষ্ণসার হরিণ’ (ব্ল্যাক বাক) হত্যা মামলার জেরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকে বারবার হুমকি পাওয়ার পর সলমন খানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই গ্যাংটিই সিদ্দিকীর হত্যার দায়ও স্বীকার করেছিল।
গত বছর বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়ে সলমন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ঈশ্বর বা আল্লাহ—সবকিছুই তাঁর হাতে। মানুষের আয়ু যতটুকু নির্ধারিত, সে ঠিক ততটুকুই বাঁচে; আসল কথা এটাই। তবে মাঝেমধ্যে এত লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা করাটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাবা সিদ্দিকীর মৃত্যুর আগে, ওই বছরেই এপ্রিলে মুম্বইতে সলমন খানের বাসভবনের বাইরে মোটর বাইকে আসা দুই ব্যক্তি বেশ কয়েকবার গুলি চালায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয় এবং পরবর্তীতে এই গোলাগুলির ঘটনাটি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়।
সলমনকে এরপর দেশাত্মবোধক যুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘মাতৃভূমি’-তে (যার আগের নাম ছিল ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’) দেখা যাবে। ছবিটির পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া। এছাড়া একটি অ্যাকশন সিনেমার জন্য সলমন প্রথমবারের মতো তেলেগু পরিচালক ভামশি পাইদিপাল্লির সঙ্গেও কাজ করছেন।