Last Updated:
প্রকাশ্যে দলত্যাগ, তিক্ত অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ পর্যন্ত নানা কারণে তৃণমূল কংগ্রেস অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। প্রবীণ তৃণমূল নেতা সুখেন্দু শেখর রায় তাঁর রাজ্যসভার আসন এবং দল থেকে পদত্যাগ করার পর থেকেই রাজ্যসভা থেকে দলত্যাগের এই হিড়িক শুরু হয়।
নয়াদিল্লি: চলতি সপ্তাহেই পর পর পদত্যাগ৷ সোমবার সুখেন্দু শেখর রায়৷ বুধে সুস্মিতা দেব৷ তারপরে বৃহস্পতিতে প্রকাশ চিক বরাইক৷ জানা গিয়েছে, প্রকাশ চিক বরাইক জানিয়েছেন, তিনি প্রথাগত ভাবে উপ রাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে তাঁর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন৷ প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগের পরে এবার রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে হয়ে গেল ১০৷
পদত্যাগ পত্রে প্রকাশ চিক বরাইক লিখেছেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলাম৷ তাৎক্ষণিকভাবেই তা প্রতিফলিত হবে বলে আশা করি৷ রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে আমার কার্যকালে সকল প্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমি মহামান্য সভাপতি, মাননীয় উপ-সভাপতি এবং রাজ্যসভা সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তাবৃন্দের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি৷’’
২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের হয়ে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সূর্যসেন কলেজ থেকে বি.কম স্নাতক৷ জাতীয় রাজনীতিতে আসার আগে তিনি উত্তরবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিকদের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি আলিপুরদুয়ার অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সুস্মিতা বলেন, “এখন তিনি মুক্ত এবং স্বাধীন।” তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনই কিছু ভাবেননি বলে জানান সুস্মিতা। সুস্মিতা এ-ও জানান যে, তিনি আদতে অসমের রাজনীতিক। তবু রাজ্যসভায় পাঠানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবশ্য মুখ খুলতে চাননি সুস্মিতা। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা, বহু দিনের পরিচয়ের সুবাদেই হিমন্তের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি।
গত সোমবার রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়৷ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুখেন্দু শেখর রায় জানিয়েছিলেন, “তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। দল থেকেও পদত্যাগ করেছি।”
Jun 11, 2026 10:57 AM IST
