কলকাতা: সংসদ ভবন অভিযানের আগেই, অনশনের ২১ দিনের মাথায় সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দিল পুলিশ। প্রতিবাদে চলছে বিক্ষোভ, অনশন। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই অনশনকারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। যদিও তা মানতে নারাজ সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী। তাঁর দাবি, সোনম এখনও অনশন ভাঙেননি।
নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে, কিন্তু ভাঙানো গেল না অনশন! জানালেন স্ত্রী
আলোচনার বদলে বলপ্রয়োগের রাস্তাই বেছে নিল প্রশাসন। যন্তর-মন্তরে অনশনকারী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ। এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল আন্দোলনকারীদেরও। NEET-এর প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন করছিলেন আন্তর্জাতিক খ্য়াতিসম্পন্ন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার ভোরে তাঁর অনশন ঘিরে যন্তর মন্তরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনশনস্থল থেকে জোর করে তাঁকে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। যদিও তাঁর স্ত্রীর দাবি, তার পরেও অনশন ভাঙেননি সোনম।
দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কারণ দীর্ঘ অনশনের ফলে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। সেই কারণেই তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি হয়ে পড়ে। পরে সফদরজং হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, সোনম ওয়াংচুকের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তবে দীর্ঘ অনশনের কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল। নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়ার প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসার কথা ঘোষণা করেছেন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি ও সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ।
কী বলছেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী?
এদিন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো দাবি করেন, সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, এখনও অনশন ভাঙানো যায়নি। নুনজল খেয়েই আছেন সোনম ওয়াংচুক। পাশাপাশি গীতাঞ্জলি জে আংমো অভিযোগ করেছেন, যদি সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে হাসপাতালের ফ্লোর ভর্তি এত পুলিশ কেন? হাসপাতাল নাকি জেল? পাশাপাশি গীতাঞ্জলি জে আংমোর অভিযোগ, সোনম ওয়াংচুকের যে যে রিপোর্ট হাসপাতালের তরফ থেকে দেখানো হচ্ছে, সেগুলি ভরসাযোগ্য নয়। হাসপাতালের তরফ থেকে যে রিপোর্ট দেখানো হচ্ছে, সেগুলি হাতে দেওয়া হচ্ছে না কেন, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। গীতাঞ্জলি জে আংমোর আরও অভিযোগ, সোনম ওয়াংচুকের যে রিপোর্ট দেখানো হচ্ছে, এত অল্প সময়ে, শরীরে এতটা অবনতি হওয়া কার্যত অসম্ভব। সমস্ত পরীক্ষা ফের বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে করাতে চান সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ২০ তারিখের সংসদ পর্যন্ত মার্চ আটকানোর জন্যই পুলিশের এই বলপ্রয়োগ, যদি সোনম ওয়াংচুক এদিন মিছিল না ও করতে পারেন, তাহলে তিনিই নেতৃত্ব দেবেন।