পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহেই হাউতিদের বিমান হামলার শিকার হওয়ায় এবার তাদের গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম’ পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিল সৌদি আরব। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রিয়াধ ও বাগদাদ-উভয়পক্ষই জানিয়েছে যে, হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল, যেখানে ইরান-সমর্থিত হাউতিরা সক্রিয় রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ-বাণিজ্যপথ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন বিশ্ব অর্থনীতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়েছিল। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা লাঘব করতে রিয়াধ এই পাইপলাইনটি ব্যবহার করছিল। মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের রিয়াধ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনটিকে টার্গেট করা হয়েছিল।
জাহাজ ট্র্যাককারী কোম্পানি ও বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।
ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে যে, শুক্রবার হাউতিরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বা বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে অবস্থিত পেরিম দ্বীপটি দখল করে নিয়েছে। পাশাপাশি হাউতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও দেশটির জ্বালানি পরিকাঠামোকে টার্গেট করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার সংঘাত নিরসনের আলোচনা যখন স্থবির হয়ে আছে, ঠিক সেই সময়ে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব সামরিক সহায়তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা ও টেকনিক্যাল সহায়তা দিয়ে সৌদিকে সহযোগিতা করছে। তবে সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সে সময় অভ্যন্তরীণ সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর কষাকষির ক্ষেত্রে ইরানকে আবারও বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। যদিও বর্তমানে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে আছে, তবুও তেহরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে দর কষাকষির একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করে আসছে।
Kolkata Metro News : কাল সকালে টালিগঞ্জ থেকে ব্রিজি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে মেট্রো পরিষেবা | ABP Ananda