এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ড থেকে জানা যায়, বিমানটি তার শেষ মুহূর্তগুলিতে ক্রমশ খারাপ হতে থাকা আবহাওয়া, তীব্র ঝাঁকুনি (টার্বুলেন্স) এবং বরফ জমার মতো তীব্র পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। বিমানটির উচ্চতা আশঙ্কাজনক হারে নীচে নেমে যাচ্ছিল, আর এই সময়  ক্রুরা বারবার জরুরি সংকেত (ডিসট্রেস কল) পাঠাতে থাকেন।

যে অডিও বার্তা পাওয়া গেছে, তাতে বলেন, “আমরা নিচে নেমে যাচ্ছি—মে-ডে, মে-ডে—আমরা প্রতি মিনিটে ১০,০০০ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছি।”

কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নিল। পাইলট বললেন, “আমরা অতিরিক্ত গতিতে প্রতি মিনিটে ২০,০০০ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছি,” এবং এরপর যোগ করলেন, “আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।”

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিওতে ধরা পড়া আরও একটি আতঙ্কজনক বার্তায় শোনা যায়, এক নারী ক্রু সদস্য চিৎকার করে বলছেন, “সর্বনাশ! আমাদের হাতে আর সময় নেই”—ঠিক তার পরপরই বিমানটি খাড়াভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ে।

জেট বিমানটি দ্রুত নিচে নেমে আসার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন।

একজন কন্ট্রোলার বলেন, “নভেম্বর টু ব্রাভো ডেল্টা, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, আমার সঙ্গে কথা বলুন।”

ওড়ার সময়ে বরফ ও তীব্র ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) সম্মুখীন বিমান

ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)-র তথ্য অনুসারে, ‘লিয়ারজেট ৬০’ (Learjet 60) মডেলের বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের নর্থ এলেউথেরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।

বিমানটি ৩৫,০০০ ফুট উচ্চতায় পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় পাইলটরা তীব্র ঝাঁকুনি, বরফ জমার ঘটনা এবং বৃষ্টিপাত বা তুষারপাতের কথা জানান। এ সময় তারা বিমানটিকে আরও ২,০০০ ফুট উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে অনুরোধ করেন।

এর আগে পাইলট কন্ট্রোলারদের জানিয়েছিলেন, “আমাদের এখানে হালকা, স্বচ্ছ বরফ জমেছে যা সামলানো সম্ভব, আর মাঝারি ধরনের টার্বুলেন্স (বাতাসের ঝাঁকুনি) রয়েছে।”

তবে বিমানটি বৃষ্টিপাত বা তুষারপাতের সম্মুখীন হওয়ার পর এবং উচ্চতা বাড়ানোর চেষ্টা করার পরপরই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে।

বিমানটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নামতে শুরু করে

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ড থেকে জানা যায় যে, জেট বিমানটি প্রায় ৪১,০০০ ফুট উচ্চতায় ওঠার পর খাড়াভাবে নিচের দিকে নামতে শুরু করে।

তথ্য অনুসারে, বিমানটি প্রথমে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০,০০০ ফুট, এরপর প্রতি মিনিটে ২০,০০০ ফুট এবং শেষপর্যন্ত প্রতি মিনিটে ৩০,০০০ ফুটেরও বেশি গতিতে নিচের দিকে নামতে থাকে—যা বিমানটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যায়।

জেট বিমানটি মাটির দিকে দ্রুত নেমে যাওয়ার আগে ডানদিকে একটি তীব্র মোড় নিয়েছিল। পরবর্তীকালে ফ্লাইট ডেটা থেকে দেখা যায়, বিমানটি প্রতি মিনিটে ৩২,০০০ ফুটেরও বেশি গতিতে নিচের দিকে নেমে আসছিল। বিমানটি থেকে পাওয়া সর্বশেষ সংকেতটি প্রায় ৮,৭৫০ ফুট উচ্চতায় রেকর্ড করা হয়েছিল।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Tutorgo – Education WordPress Theme TUULIKKI Nordic Blog & Shop WordPress Theme TV Schedule and Timetable for WordPress Twilio Jetpack CRX Addon Twirl – A Personal WordPress Blog Theme Twitch LiveStream Box and Countdown WordPress Plugin Twitchomatic Automatic Post Generator and Twitch Auto Poster Plugin for WordPress Twitter Feeds for Elementor WordPress Plugin Twitter Timeline Feed WordPress Plugin Typer – Multi Author Publishing WordPress Theme