ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের গোষ্ঠী হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে বলেন, “সৌদি যুদ্ধবিমানগুলি খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি (Khamis Mushait Airbase) থেকে টেক অফ করে F-15 যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে মোট ৪০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাইজ, মারিব এবং হোদেইদা প্রদেশকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।”
বুধবার হুথিরা নতুন করে সৌদি বিমান হামলার খবর জানিয়েছে। এর আগে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হুথিরা পবিত্র শহর মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি “কাপুরুষোচিত” হামলা চালিয়েছে।
হুথিরাও অবশ্য এই অভিযোগকে সঙ্গে সঙ্গেই “মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করে। বুধবার ভোরে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কার দিকে এগিয়ে আসা একটি ড্রোন তারা গুলি করে ধ্বংস করেছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তীব্র ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
হুথিদের সঙ্গে ইয়েমেনের রিয়াধ-সমর্থিত সরকারের নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ে এবার সৌদি আরবও জড়িয়ে পড়েছে। এর আগে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের উপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছিল।
গত সপ্তাহে হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের সম্পূর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেয়। সৌদি আরবের তেল রফতানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি এমন এক সময়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, যখন বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের বিদেশ মন্ত্রক মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসবাদী হামলা” বলে নিন্দা করেছে। একইসঙ্গে সৌদি সরকার “দুই পবিত্র মসজিদ, তীর্থযাত্রী এবং সমগ্র সৌদি ভূখণ্ডের নিরাপত্তা রক্ষা করার” অধিকার জানিয়েছে।
তবে হুথি পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ এই অভিযোগ খারিজ করে বলেন, এটি “একটি পুরনো মিথ্যা, যা আগেও ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখন আর কাউকে বোকা বানাতে পারে না।”
মক্কার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদসংস্থা এএফপিকে বলেন, হামলার সতর্কবার্তা মোবাইলে পাওয়ার পর তাঁরা “কয়েকজন মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে জানালার দিকে ছুটে গিয়ে কী ঘটেছে তা দেখতে” দেখেছেন। তবে তিনি বলেন, “মক্কায় জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।”
এর আগে অন্য একটি সংঘাতের সময় সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে শহরটির দিকে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছিল। গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াই করা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, “দুই পবিত্র মসজিদ এবং তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে লাল রেখা।”