কলকাতা: দেশের মানুষকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার আওতায় নিয়ে আসা ও তাঁদের দেশের অর্থ ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্তি করণের লক্ষ্য নিয়ে চালু হয়েছি প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা অ্যাকাউন্ট। সম্প্রতি হওয়া একটি RTI বলছে প্রতি ৪ টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১ টি নিষ্ক্রিয়। সেখানে আরও জানানো হয়েছে যে, দেশে জনধন যোজনার প্রায় ৫৯ কোটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১৫ কোটি ৩৬ লক্ষের বেশি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ কোটি ৭২ লক্ষের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই।
আরও পড়ুন: প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমিয়েই কোটি কোটি টাকার মালিক, চাকরির বেতন থেকে কীভাবে হতে পারে এত বড় তহবিল?
অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫৯ কোটি ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯০৭টি জনধন অ্যাকাউন্ট ছিল। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা।
মোট অ্যাকাউন্টের মধ্যে প্রায় ৩২ কোটি ৮৯ লক্ষ অ্যাকাউন্ট মহিলা ও ট্রান্সজেন্ডার গ্রাহকদের নামে রয়েছে। পুরুষদের নামে রয়েছে প্রায় ২৬ কোটি ১৪ লক্ষ অ্যাকাউন্ট। তবে শূন্য ব্যালান্স এবং নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরও পড়ুন: ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করবেন ভাবছেন? SIP, লাম্পসাম নাকি FD; কোথায় বিনিয়োগ আপনার জন্য সঠিক হবে?
শূন্য ব্যালান্স অ্যাকাউন্টের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে প্রায় ৯৫ লক্ষ ৯২ হাজার জনধন অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই। এরপর রয়েছে বিহার, যেখানে এই সংখ্যা প্রায় ৬২ লক্ষ ৩৫ হাজার। পশ্চিমবঙ্গে শূন্য ব্যালান্স অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ৩৭ লক্ষ ২০ হাজার। অসমে ৩৬ লক্ষ ৩০ হাজার এবং মহারাষ্ট্রে প্রায় ৩৬ লক্ষ ৪ হাজার অ্যাকাউন্টে শূন্য ব্যালান্স রয়েছে।
নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও উত্তরপ্রদেশ শীর্ষে। সেখানে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লক্ষ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়। পশ্চিমবঙ্গেও নিষ্ক্রিয় জনধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ কোটি ২ লক্ষের বেশি। ২০১৪ সালের অগস্টে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মিশন হিসেবে চালু হয় প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা। সকল পরিবারের কাছে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এর মূল লক্ষ্য। তবে বিপুল সংখ্যক নিষ্ক্রিয় ও শূন্য ব্যালান্স অ্যাকাউন্ট এখন সেই লক্ষ্য পূরণের বাস্তব চিত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।