রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট— আমেরিকার উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থনপুষ্ট এই সংশোধিত আইনটির লক্ষ্য রুশ কর্মকর্তাদের, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে এবং জ্বালানি প্রকল্পগুলিকে নিশানা করে মস্কোর উপর চাপ বাড়ানো। একই সঙ্গে, রাশিয়ার জ্বালানির প্রধান ক্রেতা দেশগুলিকে তাদের রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য করতে শুল্ক আরোপের কৌশলও এতে রাখা হয়েছে।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত বিলে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় তৃতীয় পক্ষের ক্রেতাদের উপর আরোপ করা যেতে পারে এমন সর্বোচ্চ শুল্কের হার ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে প্রস্তাবিত বিলে সর্বজনীনভাবে ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
বিলটির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি ইউক্রেন সফরের সময় ঘোষণা করেছিলেন যে, এই আইনটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। তবে শনিবার হঠাৎই লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু হয়।
রাশিয়ার তেলের শীর্ষ ক্রেতাদের মধ্যে ভারত ও চিন:
মার্কিন সেনেটের সহযোগীদের মতে, সংশোধিত এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের পাঁচটি বৃহত্তম ক্রেতা দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এই দেশগুলির মধ্যে রয়েছে চিন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজান। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছে চিন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি এবং বেলজিয়াম।
আইনটিতে এমন কিছু দেশের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যারা রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই সরবরাহ কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই বিধান থেকে জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি এবং বেলজিয়ামের মতো দেশগুলি সম্ভাব্যভাবে সুবিধা পেতে পারে।
শুল্ক আরোপের বাইরে, বিলটিতে রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই ট্যাঙ্কার বহর পশ্চিমি সামুদ্রিক পরিষেবার বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়াও, রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট বড় জ্বালানি প্রকল্পগুলিকেও এই বিলের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইয়ামাল এলএনজি (Yamal LNG) এবং আর্কটিক এলএনজি (Arctic LNG) প্রকল্প।
সংশোধিত বিলে এমন একটি বিধানও রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মনে করেন যে তা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে, তাহলে তিনি এই নিষেধাজ্ঞাগুলি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন।