শতাব্দী রায়, ২০০৯ সালে রাজনীতিতে যোগ করেন৷ বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সাংসদ হন তিনি৷ টানা প্রায় ২০ বছর তিনি সংসদে৷ রাজনীতিক হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষ৷ একই ভাবে নায়িকা হিসেবেও তিনি ছিলেন খুবই জনপ্রিয়৷ বাংলা সিনেমার অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়িকা৷ বহু বছর টলিউডে রাজত্ব করেছেন৷
বিয়ের ২৬ বছর পার শতাব্দী-মৃগাঙ্কের
তাপস পাল, প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিতের নায়িকা শতাব্দী রায়৷ তাঁর একের পর এক হিট সিনেমা রয়েছে৷ একান্ত আপন, গুরুদক্ষিণা, আপন আমার আপন, মান মর্যাদা, অন্তর্ধান, তুমি যে আমার, লাঠি, মায়ার বাঁধন সহ আরও বহু বহু হিট বাংলা ছবির নায়িকা তিনি৷ করেছেন ছবি পরিচালনাও৷ অভিনয়-পরিচালনার পাশাপাশি তিনি লেখিকা৷ নিজের লেখা গল্প-কবিতা রয়েছে তাঁর৷ অপূর্ব কবিতা পাঠ করেন শতাব্দী রায়৷
বাংলা সিনেমার নায়িকা হিসেবে শতাব্দী এমন একজন তারকা, যাঁকে ঘিরে নেই কোনও গসিপ৷ একেবারে সেই সবদিক থেকে তিনি শত হাত ধরে৷ কোনও নায়কের সঙ্গে কখনও নাম জড়ায়নি তাঁর৷

শতাব্দী রায়ের বিয়ের ছবি
২০০০ সালে ১ মে বিয়ে হয় শতাব্দীর৷ পাত্র মৃগাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে সুপারস্টার নায়িকার বিয়ে হয়৷ তিনি সেই সময় ছিলেন আমেরিকা নিবাসী ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট৷ তাঁর সঙ্গেই ২৬ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন শতাব্দী৷ তাঁদের সুখের সংসার৷ রয়েছে ২ সন্তান৷ শতাব্দীর সঙ্গে হাতে হাত মিলে সংসার সামলান মৃগাঙ্কও৷ প্রথমে অভিনয়ের ব্যস্ততা। তার পরে রাজনৈতিক জীবনের ব্যস্ততা। ফলে খুব বেশি সময় দিতে পারেন না শতাব্দী৷ সেক্ষেত্রে মৃগাঙ্কই সব সামলে দেন, জানিয়েছেন শতাব্দী নিজেই।
১ মে তাঁদের বিবাহবার্ষিকীতে শতাব্দী একটা পোস্ট করেন৷ নিজের ফেসবুক পেজে সেটাই ‘পিন টু টপ’ পোস্ট করেছেন৷ সেখানে তিনি লিখেছেন, ২৬ বছর। অনেকগুলো দিন, অনেকগুলো সপ্তাহ, অনেকগুলো ঘণ্টা। এতগুলো বছর বেঁচে থেকে সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন কাজ, সহজ নয় কিন্তু। এর মধ্যে এক মজা আছে, সেই মজাতেই ভালোবেসে এতগুলো বছর কাটিয়ে দিলাম একসাথে,আমি ও আমরা।

শতাব্দী রায়ের বিয়ের ছবি
শতাব্দী রায় বিয়ের আয়োজন ছিল এলাহি৷ সাজানোর দায়িত্বে ছিলেন মেক আপ আর্টিস্ট গৌরী বসু। বাঙালি সাজেই সাজানো হয়েছিল নায়িকাকে৷ সেইসময়কার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দুজনেই এসেছিলেন তাঁর বিয়েতে৷ সেই সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী-মৃগাঙ্কের বিয়েতে৷
এখন তাঁদের গোছানো সংসার৷ অভিনয় হোক বা রাজনীতি, দিনের শেষে ঘরে ফিরে আসেন শতাব্দী রায়৷ কারণ কারণে সেখানেই তিনি ফিরে পান মনের শান্তি৷