ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাতে ইতি টানতে যে খসড়া চুক্তি তৈরি করা হয়েছে, তাতে মূলত যে বিষয়গুলির উপরে জোর দেওয়া হয়েছে তা হল-
অবরুদ্ধ হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া৷
আর ৬০ দিন সংঘর্ষবিরতি কার্যকর করা৷
ইরানের উপরে চাপানো নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার৷
পরমাণু নিরস্ত্রিকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা৷
স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া৷
এবার দেখে নেওয়া যাক শেষ পর্যন্ত ইরান আমেরিকা শান্তি চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত হতে পারেন?
ইরান আমেরিকা শান্তি চুক্তি কার্যকর হয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে পেট্রোল এবং ডিজেলের বর্ধিত মূল্য কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে৷ যাঁরা যানবাহনে জ্বালানি ভরান, তাঁরাই এর সবথেকে বেশি সুবিধা পাবেন৷ ভারতের মোট জ্বালানির যা চাহিদা, তা মেটাতে প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়৷ এর সিংহভাগই উপকূলীয় দেশগুলি থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতে পৌঁছয়৷
ইরান আমেরিকা যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় পেট্রোল ডিজেলের মতোই বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ-এর দামও একধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ ফলে লাফিয়ে বেড়েছে বিমান ভাড়া৷ বিশেষত প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমানের ভাড়ায়৷ ইরান আমেরিকা শান্তি চুক্তি কার্যকর হয়ে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিমানের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানিও সস্তা হতে পারে, ফলস্বরূপ কমতে পারে বিমান ভাড়া৷
পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে৷ ফলে সবজি, মাছ, ডিম থেকে শুরু করে খাদ্য দ্রব্য এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে৷ পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে কৃষি ক্ষেত্রেও৷ কারণ উপকূলীয় দেশ থেকে কৃষি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের একটা বড় অংশ আমদানি করা হয়৷ সবমিলিয়ে খাদ্য পণ্যের দামও গত কয়েকমাসে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে৷ ইরান আমেরিকা শান্তি চুক্তি কার্যকর হয়ে জ্বালানি খরচ কমলে তার সুফল হিসেবে খাদ্যদ্রব্যের দামও কমতে পারে, স্বস্তি পেতে পারেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষ৷
ইরান আমেরিকা যুদ্ধের জেরে ভারতের এলপিজি আমদানিও ধাক্কা খেয়েছে৷ ফলে পেট্রোল, ডিজেলের মতো দাম বেড়েছে রান্নার গ্যাসেরও৷ হরমুজ প্রণালী খুলে গিয়ে এলপিজি-র সরবরাহ স্বাভাবিক হলে রান্নার গ্যাসের দামও কিছুটা কমতে পারে৷
জ্বালানির দাম কমলে পরিবহণ খরচ কমে, হ্রাস পায় মুদ্রাস্ফীতির হার৷ মুদ্রাস্ফীতির হার কমলে সাধারণত রিজার্ভ ব্যাঙ্কও সুদের হারে কাটছাঁট করে৷ এর ফলে কমতে পারে পার্সোনাল, হোম লোন, কার লোনের ইএমআই৷