এদিন তারাতলা প্রসঙ্গে বিধানসভার অধিবেশনে বক্তৃতা করার সময় পূর্বতন সরকারের গাফিলতিকেই ঘটনার জন্য দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ প্ল্যানে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে তা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সই করলেন সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ বিরোধীদের বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে সরাসরি বলেন, ‘‘এই দেখুন ফিরহাদ হাকিমের সই। স্ট্রাকচারে গাফিলতি থাকা সত্ত্বেও সই করেছে৷ নকশায় গাফিলতি আছে।’’
অন্যদিকে, এদিন বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকারও অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু৷ জানানা, বড় বিম কাটার যন্ত্র পর্যন্ত সরকারের কাছে নেই৷
এমনকি, এদিন সরাসরি ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নামও সরাসরি বিধানসভায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী৷
তারাতলায় যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা মনোরঞ্জন সরদার। তিনি রোজে কাজ করেন বিভিন্ন কারখানায়। মনোরঞ্জনের কথায়, ‘‘এই এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ ছিল। এখানে পোর্টর সব জমি। কিন্তু হস্তান্তর কাউন্সিলর এবং নেতাদের কথা ছাড়া হত না। এর পেছনে আনোয়ার খান কাউন্সিলর এবং ববি হাকিম ছিলেন। কে লিজ নেবে, তা নাকি এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই ঠিক হতো। জমি পেলেই স্থানীয় সিন্ডিকেটের লোকজন চলে আসত কেউ টিন দেবে কেউ বালি দেবে কেউ পাথর দেবে। বেহেরাদের এই এলাকা শুধু নয় মেটিয়াবুরুজ ও সহ কোর্টের অন্যান্য জায়গাতেও গোডাউন রয়েছে।’’
কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, বুধবার বিধানসভায় থাকা অবস্থাতেই দুর্ঘটনার খবর পান তিনি৷ খবর পাওয়ার মাত্রই ছুটে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে৷ কিন্তু, সেখানে পরিস্থিতি জটিল থাকায় পুলিশ তাঁকে না ঢুকতে অনুরোধ করে৷ তারপরে তিনি ফিরে আসেন৷ পরে অবশ্য আহতদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালেও গিয়েছিলেন তিনি৷
পাশাপাশি, শুভেন্দু অধিকারীর ‘সই’ অভিযোগ প্রসঙ্গে ফিরহাদের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এগুলো মেয়রের দেখার কথা নয়৷ প্ল্যান স্যাংশন বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট করে৷ তারপরে কমিশনার সই করে সেটা মেয়রের কাছে আসে৷ মেয়র শুধু নামমাত্রই সই করে৷ টেকনিকাল বিষয় দেখা মেয়রের এক্তিয়ারে পড়ে না৷ সবক্ষেত্রেই তাই৷ মেয়র, এক্স মেয়র কিছুর ওপরেই এর এক্তিয়ার থাকে না৷’’
পাশাপাশি, ফিরহাদের দাবি, যে কাঠামোটি ভেঙে পড়েছে সেটি প্ল্যান পাশ হওয়ার পরেই তৈরি হয়েছে৷ তৈরি হওয়ার সময় ‘সুপারভিশনে’র অভাব ছিল৷ সেক্ষেত্রে, মেয়রের কিছু করার থাকে না বলে তাঁর দাবি৷
তারাতলা কাণ্ডের উদ্ধারকাজ নিয়ে অবশ্য রীতিমতো প্রশংসা করতে দেখা যায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে৷ তিনি জানান, যেভাবে মন্ত্রী, প্রশাসন, আধিকারিক, সেনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী কাজ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়৷ তৎপরতার সঙ্গে কাজ হওয়ায় অনেকের প্রাণ বাঁচানো গিয়েছে বলে জানান তিনি৷