নয়াদিল্লি: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র আওতায় স্কুলশিক্ষায় এবার বড় পরিবর্তন। নবম শ্রেণির পাঠ্য়ক্রমে যুক্ত হল জরুরি অবস্থা। নবম শ্রেণির সমাজ বিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে ১৯৭৫-’৭৬ সালের জরুরি অবস্থা বর্ণনা থাকছে। এত দিন দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল জরুরি অবস্থা। এবার আরও কম বয়সি ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্য়ক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হল। (Emergency in Class 9 Textbook)
নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ে জায়গায় করে নিয়েছে জরুরি অবস্থা। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT) ওই অধ্যায়ের নাম রেখেছে Understanding Society: India And Beyond. এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরে রাজনৈতিক ইতিহাস পড়ানোর ধারায় এবার বড় পরবির্তন ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। (NCERT Includes Emergency in Class 9 Book)
এতদিন পর্যন্ত দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বইয়ে জরুরি অবস্থার উল্লেখ পাওয়া যেত, যেখানে জরুরি অবস্থার রাজনৈতিক কার্যকারণ, সাংবিধানিক ব্যাখ্য়া এবং গণতন্ত্রের উপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা ছিল। এখন যে রদবদল ঘটানো হল, তাতে অনেক আগেই জরুরি অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে পড়ুয়ারা।
নবম শ্রেণির বইয়ে জরুরি অবস্থার যে বিবরণ রয়েছে তা হল, ‘১৯৭৫-’৭৭ জরুরি অবস্থা কার্যকার থাকাকালীন ভারতীয় গণতন্ত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধতকার সৃষ্টি হয়। সাতের দশকের গোড়ার দিকে ইন্দিরা গাঁধী সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছিল। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, অপশাসনের অভিযোগে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ছিল দিকে দিকে। অভ্যন্তরীণ অশান্তির দোহাই দিয়ে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকারগুলি খর্ব হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়, গ্রেফতার করা হয় বহু রাজনীতিক, সমাজকর্মীদের’।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র আওতায় স্কুলশিক্ষাকে বহুমুখী এবং দক্ষতানির্ভর করে তোলাই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে NCERT. সেই সঙ্গে অল্প বয়স থেকেই দেশের ইতিহাস এবং সংবিধান সম্পর্কে পড়ুয়াদের ওয়াকিবহাল করে তোলাও লক্ষ্য তাদের। সেই লক্ষ্যপূরণেই সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে একাধিক পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে জরুরি অবস্থাকে রাখার এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি। দলের জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুণাওয়ালা বলেন, “ইন্দিরা গাঁধী এবং কংগ্রেস ক্ষমতার লোভে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর আঘাত নেমে আসে। সংসদ, বিচারবিভাগ, সংবাদমাধ্যমের উপর খাঁড়া নামে। কিশোর কুমারের মতো মানুষের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হতে দেখেছি আমরা। অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে তাঁদের গান সরিয়ে নেওয়া হয়। এমন বর্বরোচিত আচরণ করা হয়। জরুরি অবস্থা সম্পর্কে জানা উচিত পড়ুয়াদের, যাতে ভবিষ্যতে তেমন কিছু না ঘটে। তাই NCERT ওই বিষয়টিকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করেছে। ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসের অন্ধকারতম সময়কালটি মনে রাখা উচিত।”
কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন শেহজাদ। তাঁর বক্তব্য, “দুর্ভাগ্যজনক ভাবে কংগ্রেস ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল এবং আজও তাদের ওই মানসিকতা রয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস এর বিরোধিতা করছে কেন? সংবিধানের সমর্থক হলে তো সমর্থন করা উচিত।”
এর জবাবে কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার বলেন, “ইতিহাস বিকৃতি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর একটা প্রচেষ্টা চলছে। শিশুদের ভুল জিনিস শেখানো হচ্ছে। কোনও গোপন অভিসন্ধি থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি। সংবিধানেই বিধান রয়েছে। আজকাল তো সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলাই যায় না, বিরোধিতা করা যায় না। তরুণ প্রজন্মকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। এখনকার শিশুরা বুদ্ধিমান। হাতের কাছে AI রয়েছে, অন্য তথ্যসূত্রও রয়েছে। নিজেরাই সত্যতা যাচাই করে নেবে।”
উদ্ধব-শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, “জরুরি অবস্থা একটি সাংবিধানিক বিধান, কোনও ঐতিহাসিক ঘটনা বা অধ্যয়নের বিষয় নয়। গত ১২ বছর ধরে জরুরি অবস্থা চলছে। ইন্দিরা গাঁধী কোনও দলকে ভেঙে খান খান করেননি।” অর্থাৎ NCERT-র সিদ্ধান্তে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI
Madhyamik 2026: ইতিহাসে ফুল মার্কস পাওয়া মোটেও শক্ত নয়, মাধ্যমিকের লাস্ট মিনিট টিপস