Last Updated:
Rachana Banerjee on Mahua Moitra:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই রাজনীতির ময়দানে পথচলা শুরু রচনার৷ ২ বছর আগেই শুরু হয়েছিল এই সফর৷ তবে এবার পালাবদল হতেই সুর বদল অভিনেত্রীর৷ হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে যে যেতে পারেন, তেমনটা বোধহয় কেউই ভাবতে পারেননি৷ ক্ষমতা হারাতেই বিদ্রোহী সাংসদের দলে নাম লেখান হুগলির সাংসদ রচনা।
কলকাতা: তৃণমূল ছেড়েছেন৷ গিয়েছেন একদা নাম না জানা দল এনসিপিআই-তে৷ তারপরে অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘দিদি নং ১’ থেকে ও বাদ পড়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সবকিছু নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহল থেকে টিভির পর্দা সব জায়গায় অন্যতম আলোচ্য নাম রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
এদিন News18 bangla র সঙ্গে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে চলতি ঘটনার অনেক কিছু নিয়েই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শুধু তাই নয়, এদিনের সাক্ষাৎকারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি একদা দলীয় সতীর্থদের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অভিনেত্রী সাংসদ৷
সম্প্রতি কালীঘাটের কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলত্যাগী সাংসদদের তথা বিদ্রোহী বিধায়কদের ‘গদ্দার’ বলে আক্রমণ করেছিলেন মহুয়া৷ জানিয়েছিলেন, কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট করেছেন যে, মানুষ তাঁর নিজের নামে নয়, বরং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখেই ভোট দিয়েছে।
এদিন মমতাপন্থী তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রচনা৷ বলেন, ‘‘মহুয়া মৈত্র ফ্রাস্ট্রেটেড…. ফুটেজ খাওয়া ছাড়া ওর কোনও কাজ নেই….. আমি কাউকে নিয়ে কোন কুরুচিকর মন্তব্য করি না৷ কিন্তু কেউ যদি আমাকে আক্রমণ করে তাহলে তাঁকে ছেড়ে কথা বলি না…. পার্লামেন্ট থেকে মহুয়া মৈত্রকে শুনেছিলাম চুরির দায়ে বাদ দেওয়া হয়েছিল৷’’
তবে রচনা জানান, মমতাপন্থী বিধায়কদের মধ্যে কাকে তাঁর বেশি পছন্দ৷ সাক্ষাৎকারে রচনা বলেন, ‘‘যে বাকি আটজন সাংসদ রয়েছেন…. তাদের মধ্যে অবশ্য আমি মদন মিত্রকে খুব সম্মান করি৷ মিঠুন চক্রবর্তী আমাকে বিজেপিতে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন{ কিন্তু আমি যাইনি….দাদা হয়তো আমার উপর রেগেই আছেন৷ আমার থেকে কুণাল ঘোষের অনেক বেশি সময়… তাই জন্য তিনি প্রতিদিন ইন্টারভিউ দেন…. আমার থেকে ওনার ব্যস্ততা অনেক কম। এই জন্য তিনি প্রেসকে এসব বলে বেড়ান…. কুণাল ঘোষ দিদিদের দেখেন তাই খোঁজ রাখেন দিদি নাম্বার ওয়ানের৷’’
এর আগেও বলেছিলেন রচনা৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ নয়, নিজের পরিচিতি এবং পরিশ্রমের জন্যই হুগলি আসন থেকে জিতেছিলেন তিনি৷ এদিনও নিজের সেই দাবিতেই অটল থাকেন রচনা৷ বলেন, ‘‘আমি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সেলিব্রিটি মুখ….লকেটকে হারানোর জন্যই দিদি আমাকে প্রার্থী করেছিলেন….আমি অনামী কেউ ছিলাম না যাকে অকারণে তুলে দিদি এনেছিলেন…. জেতার পেছনে আমার পরিশ্রমও রয়েছে৷ দলের সামনে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু পেছন থেকে দল চালান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷’’
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘হুগলির সিট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরকার ছিল…. ঘরে বসে হাজার হাজার মানুষ দিদি নাম্বার ওয়ান দেখেন…. তাই তিনি আমাকে নিয়ে এসেছিলেন এবং দিদি নাম্বার ওয়ান শোতেও এসেছিলেন…. আমি জিতিয়ে দিয়েছি সিট টা…. আমার ফেসভ্যালুর জন্য ওই সিটে জয় এসেছে৷’’
