নয়াদিল্লি: পেট্রোল-ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ইথানলে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। আর সেই আবহেই বড় সিদ্ধান্ত দিল্লি সরকারের। পেট্রোল এবং CNG চালিত মোটর সাইকেল, স্কুটারের রেজিস্ট্রেশন আর হবে না বলে জানিয়ে দিল কারা। বলা হয়েছে, দু’চাকার বাহনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিদ্য়ুৎচালিত যানেরই রেজিস্ট্রেশন হবে। বেশ কিছু দিন ধরেই ইথানল, বিদ্যুৎচালিত গাড়ির উপর জোর দিয়ে আসছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই আবহেই ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে পেট্রোল-চালিত নতুন দু’চাকার যান নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল দিল্লি সরকার। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, দিল্লির পর অন্য রাজ্যগুলিতেও কি একই নীতি কার্যকর হবে? (Delhi EV Policy 2026)
Delhi EV Policy 2026 নীতির সূচনা করছে দিল্লি সরকার। যানবাহনের বৈদ্যুতিকীকরণের লক্ষ্যেই এই নয়া নীতি। দেশের রাজধানীতে বায়ু দূষণের যে সমস্যা, তার সমাধান বের করতেও এমন সিদ্ধান্ত। জীবাশ্ম জ্বালানি বা CNG ইঞ্জিন থেকে গ্যাসের নির্গমন যাতে আটকানো যায়, তার জন্য ধাপে ধাপে পদক্ষেপ করা হবে। (Delhi EV Policy)
Delhi EV Policy 2.0-র আওতায় বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে নতুন দু’চাকার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ হয়ে যাবে। তার পর শুধুমাত্র বিদ্যুৎচালিত দু’চাকার যানেরই রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। দিল্লির মন্ত্রিসভা এই নীতিতে অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর করা হচ্ছে নয়া নীতি। চলবে ২০৩০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। ওই সময়কালের মধ্যে যানবাহনের জ্বালানি থেকে নির্গত ধোঁয়া, গ্যাসকে শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে দিল্লি সরকার।
ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে বলে জানা যাচ্ছে। বলা হয়েছে, ইলেকট্রিক অটো রিকশা এবং N1 ক্যাটেগরির মালবাহী যানের উপর প্রথম এই নীতি কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলিকে প্রথমে সেগুলির বৈদ্যুতিক সংস্করণ করে ফেলতে হবে। কারণ ১ জানুয়ারি থেকে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক অটো রিকশা এবং N1 ক্যাটেগরির মালপত্র বহনকারী যানেরই রেজিস্ট্রেশন হবে। এর পর ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুধুমাত্র দু’চাকার বৈদ্যুতিক যানের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে সেখানে। দিল্লি সরকারের এই সিদ্ধান্তে মোটর সাইকেল এবং স্কুটারের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
পেট্রোল বা CNG চালিত মোটর সাইকেল এবং স্কুটার ছেড়ে সাধারণ মানুষ যাতে বিদ্যুৎচালিত দু’চাকার দিকে ঝোঁকেন, তার জন্য ভর্তুকিও ঘোষণা করেছে দিল্লি সরকার। বলা হয়েছে, প্রথম বছরে ৩০০০০ টাকা ভর্তুকি মিলবে, দ্বিতীয় বছরে ২০০০০, তৃতীয় বছরে ১০০০০। অন্য যানবাহনের ক্যাটেগরিতে বিদ্যুৎচালিত তিন চাকার গাড়ির জন্য ৫০০০০ টাকার ইনসেন্টিভ থাকবে। মালবাহী N1 যানে ইনসেনটিভ মিলবে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
এই নীতিতে পুরোনো ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিন (আইসিই) চালিত যানবাহন বদলে বৈদ্যুতিক বিকল্প বেছে নেওয়ার জন্য মালিকদের স্ক্র্যাপেজ প্রণোদনাও (গাড়ি বাতিলের আর্থিক সুবিধা) চালু করা হয়েছে। বিএস-৪ (BS-IV) বা তার চেয়ে পুরোনো চার চাকার গাড়ির মালিকরা একটি নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সময় সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্ক্র্যাপেজ প্রণোদনা পেতে পারেন, যেখানে অন্যান্য ধরণের যানবাহনের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনার পরিমাণ ৫,০০০ টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সমস্ত যোগ্য প্রণোদনার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করে দেওয়া হবে।
এই নীতিতে পুরনো ইন্টারনাল কমবাসশন ইঞ্জিনচালিত (আইসিই) গাড়ি বদলে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ‘স্ক্র্যাপেজ ইনসেন্টিভ’ বা গাড়ি বাতিলের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিএস-৪ (BS-IV) বা তার চেয়ে পুরনো চার চাকার গাড়ির মালিকরা নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সময় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত স্ক্র্যাপেজ ইনসেন্টিভ পেতে পারেন; অন্যদিকে, অন্যান্য শ্রেণির গাড়ির ক্ষেত্রে এই প্রণোদনার পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে হবে। সরকার জানিয়েছে যে, যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রাপ্য সমস্ত প্রণোদনার অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে।
আরও পড়ুন: মায়ের কোলছুট হয়ে মায়ানগরীর সৈকতে তিমি শাবক, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলল বাঁচানোর লড়াই, কিন্তু…
জ্বালানি ছেড়ে যাঁরা বৈদ্যুতিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকবেন, তাঁদের স্ক্র্যাপিং ইনসেনটিভও দেবে দিল্লি সরকার। BS-IV বা পুরনো চারচাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মিলতে পারে। অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে স্ক্র্যাপেজ ইনসেনটিভ ৫০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকার মধ্যে। নতুন বৈদ্যুতিক যান কেনার সময় মিলবে টাকা। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। ওই সময়কালের মধ্যে দিল্লিতে নতুন ৩২০০০ চার্জিং পয়েন্টও তৈরি করবে দিল্লি সরকার।
দিল্লি সরকার আরও জানিয়েছে, ৩০ লক্ষ পর্যন্ত মূল্যের নতুন বিদ্য়ুৎচালিত গাড়ি কিনলে রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে না। তবে হাইব্রিড মডেলের গাড়ির ক্ষেত্রে এই নীতি কার্যকর নয়। অর্থাৎ শুধুমাত্র বিদ্যুৎচালিত গাড়ি কিনলেই মিলবে সুবিধা। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, আগামী চার বছরে ১৫০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সুবিধা মিলবে বলে আশাবাদী তাঁরা। অন্য রাজ্যগুলিও একই পথে হাঁটে কি না, তা-ই দেখার।
CM Suvendu Adhikari: ‘আগুন লাগালেন, আর ওই আগুনে জ্বলল বাংলা’, আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর | ABP Ananda Live