Last Updated:
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও প্রতীক হারানোর আশঙ্কা শোনা গিয়েছিল৷ আজই নির্বাচন কমিশনে নিজেদের জবাব জমা দেবে ঋতব্রত শিবিরও৷
তারাই আসল তৃণমূল। এই দাবি করে নিজেদের যুক্তি সাজিয়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দিল কালীঘাট পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। এ দিন দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেন মমতাপন্থী শিবিরের নেতারা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নথি জমা দেন দলের তিন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ।
নথি জমা দেওয়ার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, আইনি দিক থেকে তাঁদের দাবিই পোক্ত এবং ন্যায্য। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁদের যুক্তি ধোপে টিকবে কি না, তা নিয়েও অবশ্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কল্যাণ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হওয়ার পর চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি হয়। সেখানেও তিনি চেয়ারপার্সন। ওদের যুক্তি হচ্ছে ২০২২ সালে তৈরি হওয়া জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ ২০২৫ সালে শেষ হয়ে গিয়েছে৷ তাই যদি হয়, তাহলে তুমি ২০২৬-এ তৃণমূলের টিকিটে লড়লে কী করে? তোমাকে তো ভোটে লড়ার প্রতীক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
এর পরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে কল্যাণ বলেন, আইনি দিক থেকে আমাদের যুক্তি পোক্ত৷ কিন্তু ওদের সঙ্গে বিজেপি, শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থন রয়েছে৷ তাই ওদের বেআইনি কাজটাই হয়তো আইনি হয়ে যাবে৷ শেষ পর্যন্ত তা হলেও আদালতে দেখিয়ে দেবো, জনতার আদালতে বুঝে নেবো৷
তৃণমূলের নাম, প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হওয়ার পর দু পক্ষকেই চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে নিজেদের বক্তব্য কমিশনে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে মমতাপন্থীরা যাই বলুন না কেন, কমিশন তাঁদেরকেই আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে আত্মবিশ্বাসী ঋতব্রত শিবির। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, আমাদের জাতীয় কর্মসমিতি যেটা হয়েছিল সেটাই আছে। আর অন্য পক্ষের যাঁদের নাম ঘোষণা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে থেকেও কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন। মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে, পদাধিকারীরা আমাদের সঙ্গে রয়েছে। তাই আমরা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ঋতব্রত শিবিরের আর এক সিনিয়র নেতা আখরুজ্জামানও বলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁদেরকেই কমিশন আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
Kolkata,West Bengal
